আবিষ্কার : খরা পরিস্থিতিতেও বাঁচবে উদ্ভিদ


একদল বিজ্ঞানী অতিশয় একটি আশারবাণী শুনিয়েছেন৷ বাণীটি হচ্ছে খরা বা অনাবৃষ্টির মতো শুষ্ক পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে উদ্ভিদের এমন এক প্রকার জিনের আবিষ্কার করেছেন তারা৷ যার ফলে পরিবেশ বিপর্যয় তথা খাদ্য শস্য উত্‍পাদনে আশার আলো দেখা দিতে শুরম্ন করেছে৷ কারণ বর্তমান সময়ে বৈশ্বির উষ্ণতা এমন এক পর্যায়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে যে, আগামী কয়েক দশকের ব্যবধানে পৃথিবী নামের সবুজ শ্যামল এ গ্রহ আদৌ জীবের বসতযোগ্য থাকবে কিনা তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা রীতিমতো সন্দিহান৷ সে ৰেত্রে উষ্ণায়ন বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান ও তা রোধের পাশাপশি বিজ্ঞানীদের নতুন নতুন আবিষ্কার সত্যিই আশাব্যঞ্জক৷ এবার আসা যাক আবিষ্কারের সেই আশীর্বাদী জিনের কথায়৷

ফিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন তারা এমন এক প্রকার জিনের সন্ধান পেয়েছেন যা বায়ুমন্ডল থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে৷ একই সঙ্গে ঐ জিন বাষ্প আকারে বায়ুমন্ডলে পানি নিঃসরণের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে সৰম৷

বিজ্ঞান সাময়িকী ন্যাচারে প্রকাশিত নিবন্ধে গবেষক দল জানিয়েছেন, তারা সম্প্রতি ক্রেস নামে একপ্রকার উদ্ভিদ (সালাদে ব্যবহৃত এক প্রকার পাতা) নিয়ে ব্যাপক সমীৰা চালিয়েছেন৷ তাতে দেখা গেছে, আবিষ্কৃত জিন উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র (পাতার গায়ে অতিসূক্ষ্ম ছিদ্র) খোলা ও রন্ধ্র রাখার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে থাকে৷ ঐ জিন আরো কিছুটা মডিফাই বা সংস্কার করা যেতে পারে ৷ আর এ প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত জিন উদ্ভিদের বায়ুমন্ডল থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে৷ পাশাপাশি বাষ্পাকারে পানি নিঃসরণের মাত্রা কমিয়ে অতি শুষ্ক আবহাওয়ায়ও বেঁচে থাকতে পারে৷

গবেষক দলের প্রধান হেলসিকি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জ্যাকো ক্যাঙ্গাসজারভির ভাষায়, জিন সংক্রানত্ম সমীৰায় এটি একটি তাত্‍পর্যপূর্ণ আবিষ্কার৷ এ আবিষ্কার উদ্ভিদ রৰায় নতুন দুয়ার উন্মোচন করেছে৷ এ ব্যাপারে আরো ব্যাপকভিত্তিক গবেষণা চালানো দরকার৷ আমার ধারণা আবিষ্কৃত নতুন জিন থিওরি ধানসহ অন্যান্য খাদ্য শস্য চাষাবাদেও ব্যবহৃত হতে পারে৷ আগামী দুই দশকের মধ্যে এটি বাণিজ্যিক চাষাবাদের অনত্মভর্ুক্ত হওয়ার ব্যাপারেও তিনি আশাবাদী৷ তার মতে, মরম্নঅঞ্চল তথা খরাপ্রবণ এলাকায় এ প্রক্রিয়া কৃষিৰেত্রে আমূল পরিবর্তন আনতে সৰম৷ আর তাতে করে বর্তমান খাদ্য শস্য ঘাটতির একটা শানত্মিপূর্ণ সমাধানও হতে পারে৷ অবশ্য একই সঙ্গে তিনি পরিবেশ বিপর্যয় তথা বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ে নির্বিকার থাকার ব্যাপারে কঠোর সমালোচনা করেছেন৷ বিজ্ঞানের ছোট-খাটো আবিষ্কার হয়তো সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে৷ সার্বিক অবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন তাতে খুব একটা আশা করা যায় না৷ আর পরিবেশের মতো ব্যাপকভিত্তিক বিষয় আরো জটিল প্রকৃতি চলে আপন নিয়মে৷ সেৰেত্রে কৃত্রিমতার ছোঁয়া কতটা কার্যকর তাও বিচার্য বিষয়৷ তাই উদ্ভিদ জগতের পাশাপাশি মনুষ্যবসতির জন্য উপযোগী পৃথিবী গড়ে তোলা একানত্মই জরম্নরি৷ আর এ জন্য চাই পরিবেশ- বান্ধব শিল্প অর্থনীতি৷

No comments yet

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.