কলিকাটা-ক্যালকাটা থেকে কোলকাতা
বাংলার নবাব তখন ইব্রাহিম খান৷ তার আমন্ত্রণে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর কর্মাধ্যৰ জোব চার্নক ফিরে এলেন বাংলায়৷ সুতানুবি, কলিকাতা ও গোবিন্দপুর গ্রাম ইজারা নিয়ে ফোর্ট উইলিয়াম বানাতে শুরম্ন করলেন ব্যবসা ও সুরৰার প্রয়োজনে৷ গোড়াপত্তন হল কলিকাতা শহরের৷ দিনটি ছিল ১৬৯০ খ্রিস্টাব্দের ২৪ আগস্ট রবিবার৷ তবে কলিকাতা অবশ্য আরো অনেক প্রাচীন৷ ১৫৯৬ সালে সম্রাট আকবরের রাজস্ব আদায়ের নকশায় কলিকাতা বা কলিকাটা দেখানো হয়েছে৷ ইংরেজরা এর নাম দিয়েছে ‘ক্যালকাটা’৷ ইংরেজ আমলে কলিকাতা ছিল রাজধানী শহর৷ এখন কলিকাতা পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের রাজধানী৷
কলিকাতার দর্শনীয়গুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো- হাওয়া ব্রিজ বা রবীন্দ্র সেতু, বিদ্যাসাগর সেতু, ফোর্ট উইলিয়াম, গড়ের মাঠ, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল , তারা মণ্ডল, রেসকোর্স, জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি, নাখোদা মসজিদ, কালীমন্দির, রবীন্দ্র সরোবর, সায়েন্স সিটি, পরেশনাথ মন্দির, নিক্কো পার্ক, সেন্ট জেমস চার্চ, আর্মেনিয়ান চার্চন, বোটানিক্যাল গার্ডেন, মার্বেল প্যালেস৷ গঙ্গার ধারে ময়দানের প্রানত্ম জুড়ে ফোর্ট উইলিয়াম৷ এই দুর্গ নির্মাণ শুরম্ন করেন লর্ড ক্লাইভ ১৭৫৭ সালে৷ পলাশীর যুদ্ধের ১৬ বছর পরে ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়৷ সে সময় খরচ হয় কুড়ি লাখ পাউন্ড৷ তত্কালীন ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় উইলিয়ামের নামে দুর্গের নাম রাখা হয়েছিল৷ এখানে প্রায় ১০ হাজার সেনা বসবাসের ব্যবস্থা রয়েছে৷ এর অভ্যনত্মরে আছে বাজার, দোকান, রেসত্মোরাঁ, খেলার মাঠ, সিনেমা হল, ডাকঘর, ব্যাংক৷ ফোর্ট উইলিয়াম নিজেই এক ছোট শহর৷ গড়ের মাঠের আরেক নাম ময়দান৷ ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ বা গড়ের সামনের মাঠ বলেই এর নাম হয়েছে গড়ের মাঠ৷ এর উত্তরে রাজভবন এবং দৰিণে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোড৷ ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ১৯০১ সালে নির্মাণ শুরম্ন হয়ে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯২১ সালে৷ অপূর্ব এই সৌধটি কলিকাতার সেরা আকর্ষণ৷ ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের পূর্ব দিকে সেন্ট চার্লস ক্যাথেডরালের পাশেই তারামণ্ডল৷ বিবেকানন্দ রোড এবং চিত্পুর রোড বা রবীন্দ্র সরণীর সংযোগস্থলে জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি৷ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই বাড়িতে জন্মেছিলেন, আবার মারাও যান এই বাড়িতে৷ বাংলার সংস্কৃতির এককালের ধারক-বাহক এই ঠাকুরবাড়ি এখন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়৷ চিত্পুর রোড ও জাকারিয়া স্ট্রিটের সংযোগস্থলে অবস্থিত নাখোদা মসজিদ- এটি কলিকাতার বৃহত্তম মসজিদ৷ ১৯২৬ সালে গুজরাটের আবদার রহিম ওসমান ১৫ লাখ টাকা দিয়ে এই বিশাল মসজিদটি বানান৷ হাজার দশেক লোক এখানে এক সঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন৷ কালীঘাটের কালী মন্দির বানিয়েছিলেন শিবদেব রায় চৌধুরী৷ নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে৷ হাওয়া ব্রিজ তৈরি হয়েছিল ইংরেজ আমলে৷ ১৯৯২ সালে নির্মিত বিদ্যাসাগর সেতু এখন কলিকাতার গর্ব৷ গঙ্গার ওপারে হাওড়া জেলায় বোটানিক্যাল গার্ডেন৷ এটি প্রতিষ্ঠা হয় ১৭৮৬ সালে৷ আয়তন ২৭০ একর৷ এই গার্ডেনে প্রায় ৫০ হাজার রকমের গাছ-গাছালি রয়েছে৷ এর অর্কিড, ফুলের সম্ভারও অতুলনীয়৷ মাদাগাসকার লিলি এর অন্যতম সেরা আকর্ষণ৷ কলিকাতার দৰিণ প্রানত্মে ঢাকুরিয়া লেক৷ এরই আধুনিক নাম রবীন্দ্র সরোবর৷ লেকের দৰিণ দিকে রয়েছে ছোট্ট দ্বীপ৷ দ্বীপে যাওয়ার সেতুও আছে৷ রবীন্দ্র সরোবর কলিকাতার সবচেয়ে আকর্ষণীয় চড় ইভাতির জায়গা৷ সল্টলেক অঞ্চলে কৃত্রিম হ্রদ নলবন৷ নৌকা বিহারসহ নানা মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে নলবনে৷ সায়েন্স সিটিতে গেলে বিজ্ঞানের যাদুর ছোঁয়ায় দর্শকরা চলে যান আফ্রিকার জঙ্গলে অথবা পৃথিবীর বাইরে৷ কলিকাতার আরেক আকর্ষণ বিড়লা মন্দির৷ এটি পুরোপুরি শ্বেত পাথরের বিশাল মন্দির৷ বালিগঞ্জ পোস্ট অফিসের উল্টোদিকে সৈয়দ আমির আলি অ্যাভিনিউয়ের ওপর অবস্থিত৷ পরেশ নাথ মন্দিরে টিকিট কেটে ঢুকতে হয়৷ এখানে এর কেন্দ্রীয় কৰে মহারানি ভিক্টোরিয়ার মর্মর মূর্তিটি এককথায় অনবদ্য৷ এটি এখন জৈন তীর্থৰেত্র৷ এখানের শ্বেত মর্মরের মূর্তি, পান্না, হীরা, চুনির অলংকরণ, নানান মূল্যবান ধাতুর ভাস্কর্য, কাঁচের কারম্নকার্য যে কোন বয়সের দর্শককে মুগ্ধ করে৷
No comments yet