সনত্মানের স্বপ্নে বিভোর ‘পুরম্নষ মা’
আদলটা একেবারে আর্নল্ড শোয়ার্ত্সেনেগারের ‘জুনিয়র’ সিনেমার মতো৷ ‘পুরম্নষ মা’৷ রীতিমতো ‘গর্ভবান’ পুরম্নষ৷ সিনেমার গল্প এবার বাসত্মবের আঙ্গিনায়৷
ওরেগনের সুখী দম্পতি টমাস ও ন্যান্সি বেটি৷ ন্যান্সির স্বামী টমাস এখন পাঁচ মাসের গর্ভবান৷ তিনি দারম্নণ খুশি৷ ন্যান্সি তার স্বামীর আদর-যত্ন করছেন৷ নিয়ে যাচ্ছেন ডাক্তারের কাছে৷ ভারী কাজ করতে দিচ্ছে না৷ টমাস বা ন্যান্সি শুধু নন, এই চাঞ্চল্যকর খবরে খুশি তাদের প্রতিবেশিরাও৷
তবে পুরম্নষ টমাসের এই তাক লাগানো মাতৃত্বের পিছনে অন্য গল্প একটা আছে৷ টমাস ট্রান্সজেন্ডার৷ অর্থাত্ লিঙ্গ পরিবর্তনকারী৷ তিনি জন্মে ছিলেন পুরোদস্তুর মহিলা হিসেবে৷ পরে আইন মেনে লিঙ্গ বদলে পুরম্নষ হন৷ বিয়ে করেন ন্যান্সিকে৷ টমাস লিঙ্গ পরিবর্তন করে পুরম্নষ হলেও আগের স্বাভাবিক স্ত্রী জননাঙ্গগুলো বাদ দেননি৷ যুক্তরাষ্ট্রে সেক্স রিঅ্যাসাইনমেন্ট করতে গেলে পূর্ববতর্ী জননাঙ্গ বাদ দেয়া বাধ্যতামূলক নয়৷ চিকিত্সা শাস্ত্রের প্রযুক্তির সাহায্যে টমাস শারীরিকভাবে পুরম্নষের পূর্ণতা লাভ করেন৷ টেস্টোস্টেরোন থেরাপিও করান৷ এ সব বছর দশেক আগের কথা৷ তার পরেই বিয়ে হয় ন্যান্সি আর টমাসের৷
একটি ওয়েবসাইটে চৌত্রিশ বছরের টমাস লিখেছেন, সনত্মান ধারণের স্বপ্ন নারী বা পুরম্নষ উভয়েরই থাকতে পারে৷ আমারও আছে৷ তাই আমি আমার স্ত্রী জননাঙ্গ অটুট রেখেছিলাম৷ এখন আমি পুরম্নষ হয়েও মাতৃত্বের স্বাদ পাচ্ছি৷ এর চেয়ে আনন্দের, গর্বের আর কী হতে পারে? এর আগে সনত্মান গর্ভে ধারণ করলেও শেষরৰা হয়নি টমাসের৷ মন ভেঙ্গে গিয়েছিল তাদের৷
বছর কুড়ি আগে ন্যান্সি এন্ডোমেট্রিওসিসে আক্রানত্ম হন৷ তাই হিস্টেরেকটোমি করে জরায়ু বাদ দিতে হয়৷ এ কারণে ৪৫ বছরের ন্যান্সি সনত্মান ধারণে অৰম৷ স্ত্রীর অৰমতা পুষিয়ে দিতে একটুও দ্বিধা করেননি টমাস৷ এখন অনেকে হাসে, অনেকে বাকা চোখেও তাকায়, তাতে পিছিয়ে যান না এই দম্পতি৷
কিন্তু টমাসের গর্ভে যে সনত্মান বেড়ে উঠেছে, তার ‘বাবা’ কে? সাহসী টমাস রহস্য উদঘাটন করেছেন- ক্লিনিকে কৃত্রিমভাবে তার গর্ভে শুক্রাণু প্রবেশ করানো হয়েছে৷
টমাসের মাতৃত্বের আইনি বা সামাজিক সমাধান কী জানা নেই৷ তবে টমাসের ঘটনা যে বিশ্বে মায়ের নতুন এক প্রশ্নের জন্ম দিয়ে যাবে, তাতে বিন্দু মাত্র সন্দেহ নেই৷
No comments yet