মরিচ স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

অনেকেই মনে করেন মরিচ স্বাস্থ্যের জন্য ৰতিকর৷ বরং নিয়মিত ও পরিমাপমত মরিচ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভাল বলে ভেষজবিদরা জানিয়েছেন৷ মরিচ দেহে এন্টিবায়োটিক অর্থাত্‍ জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে৷ মরিচ খাওয়ার ফলে মুখগহবর ও পাকস্থলীর এনজাইম নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়৷ এই এনজাইম শর্করা জাতীয় খাবারসহ অন্যন্য খাবার পরিপাকে সহায়ক৷ মরিচে ‘ক্যাপসাইন’ নামক এলকয়েড আছে৷

শরীর প্রানত্মীয় স্নায়ুগুলোতে ‘পি’ উপাদান নামক রাসায়নিক পদার্থ ব্যথার অনুভূতি মসত্মিষ্কে নিয়ে যায়৷ ফলে ব্যথা অনুভব করি৷ মরিচের ক্যাপসাইন স্নায়ু ‘পি’ উপাদানের কার্যকারিতাকে বাধা দেয়, ফলে শরীরে ব্যথা কমে যায়৷ ব্যথা সারানোর ক্যাপসাইন ক্রিম এই মরিচ থেকে তৈরি করা হয়৷ তবে অতিরিক্ত মরিচ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ৰতিকর৷

অপরদিকে, কাঁচা মরিচে অনেক শাক-সবজির চেয়েই ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘সি’ বেশি আছে৷ তবে কাঁচা মরিচের চেয়ে শুকনা মরিচে কনিক পদার্থ, খাদ্যশক্তি, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রণ, ভিটামিন বি-১ ও বি-২ বেশি আছে৷ প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা মরিচ ও শুকনা মরিচে যথাক্রমে জলীয় অংশ ৭৩.৫ ও ১০ গ্রাম’ খনিজ পদার্থ ১ ও ৬.১ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ১০৩ ও ২৪৬ কিলোক্যালরী, আমিষ ১.৬ ও ১৫.৯ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১১ ও ১৬০ মিলিগ্রাম, আয়রণ ১.২ ও ২.৩ মিলিগ্রাম এবং ক্যারোটিন/ ভিটামিন ‘এ’ ২৩৪০ ও ৩৪৫ মাইক্রোগ্রাম৷ কাঁচা মরিচে ভিটামিন বি-১ ০.১ মিলিগ্রাম ও ভিটামিন সি ১২৫ মিলিগ্রাম৷ গর্ভবতর্ী মহিলাদের জন্য মরিচ ভেষজ হিসেবে ব্যবহার বিপজ্জনক৷ ভারতের রিজিওনাল রিসার্চ ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানীরা বলেছেন, মরিচের নির্যাস দিয়ে যক্ষ্মা রোগের ওষুধ, রিফামপিসিনের শোষণের মাত্রা দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়া সম্ভব৷ ফলে রোগীদের খরচও অর্ধেক কমে গেছে৷

No comments yet

উত্তর রেখে যান

You must be logged in to post a comment.