এক টুকরো ইলিশ মাছের জন্য
এক টুকরো ইলিশ মাছ চুরির অপবাদে মৌসুমী (৭) নামে এক কাজের মেয়ের শরীর খুন্তি দিয়ে ঝলসে দিয়েছে গৃহকত্রর্ী৷ নির্মম এ ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী এলাকায়৷ গতকাল ঘটনাটি প্রকাশ পেলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়৷ এর আগেও একবার গৃহকত্রর্ী তুচ্ছ ঘটনায় মৌসুমীর মাথা ফাটিয়ে দেয় বলে মৌসুমী অভিযোগ করেছে৷
এলাকাবাসী জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জ পাইনাদী ক্লাব এলাকার জনৈক ফোরম্যানের বাড়িতে স্বামী-সন্তানসহ ভাড়া থাকে ব্র্যাক কমর্ী আমেনা আক্তার লিপি৷ তার স্বামী ছয় মাস আগে তার ৪ বছরের ছেলে সীমান্তকে দেখাশোনার জন্য গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ থেকে মৌসুমীকে নিয়ে আসে৷ মৌসুমী সীমান্তকে দেখাশোনার পাশাপাশি ঘরের অন্যান্য কাজও করতো৷ গৃহকত্রর্ী আমেনা ছোটখাটো ভুলের জন্য প্রায়ই মৌসুমীকে মারধর করে বলে অভিযোগ করেন পাশর্্ববতর্ী লোকজন৷ কয়েকদিন আগে সামান্য ভুলের কারণে মৌসুমীর মাথা ফাটিয়ে দেয় আমেনা৷ মৌসুমীর কাছ থেকে পুরো কাজ আদায় করলেও তাকে নিয়মিত খাবার দিত না আমেনা৷ শনিবার রাতে গৃহকত্রর্ী আমেনা এক টুকরো ইলিশ মাছ চুরির অপবাদে গরম খুন্তি দিয়ে মৌসুমীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছঁ্যাকা দেয়৷ এতে মৌসুমীর পিঠ ও বিভিন্ন স্থান ঝলসে যায়৷ গতকাল মৌসুমীকে ডাক্তারের কাছে না নিয়ে আমেনা তার কর্মস্থলে চলে যায়৷ পরে মৌসুমী তার ঝলসানো শরীর প্রতিবেশীদের দেখালে তারা অাঁতকে ওঠেন৷ প্রতিবেশীরা গৃহকত্রর্ী আমেনার কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন৷ পরে বাড়ির মালিকের ছেলে মৌসুমীকে স্থানীয় ডাক্তারের কাছে নিয়ে চিকিত্সা দেন৷ আমেনা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ব্র্যাকের দাবি শাখার ‘পিও’ পদে চাকরি করে৷ এ ব্যাপারে আমেনার সঙ্গে কথা বলতে ব্র্যাক অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি৷ তার ঊধর্বতন কর্মকর্তা জানান, এ রকম ঘটনা ঘটলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো৷ আমেনার স্বামী রণজিতও একজন ব্র্যাক কমর্ী৷ রণজিতের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া থানার বাকতা দক্ষিণপাড়া এলাকায়৷ মৌসুমীর বাড়িও রণজিতের বাড়ির সনি্নকটে৷ মৌসুমীর পিতার নাম কেরামত আলী৷
No comments yet