মঙ্গলগ্রহে বাস সম্ভব কি?
দীর্ঘদিন যাবত্ মঙ্গলগ্রহ নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে যাচ্ছেন৷ প্রথম দিকে ধারণা করা হয়েছিল যে, মঙ্গলগ্রহে প্রাণের অসত্মিত্ব থাকতে পারে৷ কারণ সেখানে পানি ও খাল-বিল আছে৷ কিন্তু এসব ধারণার কোন সত্যতা প্রমাণিত হয়নি৷
মঙ্গলগ্রহে কোন প্রাণীর বসবাস থাকতে পারে না, কারণ-
১৷ লোয়েলের মতে মঙ্গলগ্রহের গড় তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রির নিচে৷ এত কম তাপমাত্রায় কোন প্রাণীর বাস অসম্ভব৷
২৷ উন্নতমানের টেলিস্কোপ দিয়ে তোলা ছবিগুলো দেখার পরও জ্যোতির্বিদরা মঙ্গলে খালগুলো খুঁজে পাননি৷
৩৷ ভাইকিং খেয়াজানের গবেষণায় জানা যায় যে, শীতল তাপমাত্রা, তরল পাণীয়র অভাবে এ গ্রহে পরিবেশ জীব থাকা অসম্ভব৷
৪৷ মঙ্গলের ঝড়ের ধূলির কুণ্ডলী কয়েক হাজার ফুট পর্যনত্ম উঠে যায় এবং তীব্র বেগে ঘুরতে থাকে৷ তাছাড়া এ ঘূর্ণিঝড় কয়েক মাস পর্যনত্ম স্থায়ী থাকে৷ তাই বিজ্ঞানীরা স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন তুলেছেন যে, মঙ্গলগ্রহে দীর্ঘ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব ঘটে, তাহলে মানুষ সেখানে দৈনন্দিন জীবন কিভাবে পরিচালনা করবেন, আবার এ ধারণাও করা যায় যে, ৪০০ কোটি বছর আগে যদিও কোন প্রাণী থাকতো তবে তারা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে৷ ২০০৫ সালের ১৯ আগস্ট মঙ্গলগ্রহে অবস্থানরত ‘স্পিরিট’-এর ক্যামেরায় বিশাল ঘূর্ণিঝড়ের দৃশ্য দেখা গেছে৷ ছবি দেখে বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে, বসনত্মকাল শুরম্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মঙ্গলগ্রহে বাতাসের গতি প্রচন্ডভাবে বাড়তে থাকে৷
৫৷ ম্যারিনা নভোযানটি মঙ্গলগ্রহের পাস দিয়ে যাওয়ার সময় সেখানটায় কোন নাইট্রোজেন গ্যাসের সন্ধান পায়নি৷ কিন্তু নাইট্রোজেন গ্যাস পৃথিবীর জীবনসমূহের একটি মূল্যবান উপাদান৷ তাই নাইট্রোজেনের অভাবে মঙ্গলগ্রহে জীবন অসম্ভব৷
৬৷ আবার মঙ্গলগ্রহের তিন বছরের যাত্রায় যে সমস্যাগুলি দেখা দিবে তাহলো বিকিরণ, অনিদ্রা, নভোচারীর মাংসপেশী ও হাড় দুর্বলতা৷ দুর্বল হবে ইমিউন ব্যবস্থা৷ এমন দুর্বলতা নিয়ে কোন নভোচারী মঙ্গলে নামলে তার ধকল কি সহ্য করতে পারবে?
৭৷ তাছাড়া মঙ্গলগ্রহের বড় সমস্যা জ্বালানি সমস্যা৷ জ্বালানির সাশ্রয় হতে পারে যদি পৃথিবী ও মঙ্গলগ্রহের পথটি সংৰিপ্ত হয়৷ আর এ সংৰিপ্ত পথটি হবে যখন পৃথিবী ও মঙ্গল প্রতি ২৬ মাস অনত্মর একই এলাইনমেন্টে এসে দাঁড়ায়৷ আবার পৃথিবী থেকে মঙ্গল গ্রহে বেতার মারফত যোগাযোগ ৪০ মিনিট লাগবে৷ অর্থাত্ পৃথিবীতে কোন বার্তা পাঠিয়ে সেই বার্তার জবাব পেতে সময় লাগবে ৪০ মিনিট৷
৮৷ পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা ৬০ বছর যাবত্ গবেষণা করে এ সত্যে উপনীত হয়েছেন যে, মঙ্গলগ্রহে কোন বুদ্ধিমান জীব ছিল না, শুধু আছে ঘন সবুজ অঞ্চল কৃত্রিম খাল ও শেওলা জাতীয় উদ্ভিত৷ এটাও আরো নিশ্চিত হওয়া যাবে যখন পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের বাইরে গিয়ে শক্তিশালী টেলিস্কোপের সাহায্যে গ্রহটাকে পর্যবেৰণ করা যাবে৷
উপরোক্ত সমস্যাগুলো এড়ানো গেলে মঙ্গলগ্রহে বসবাস সম্ভব হবে৷ তবে আদৌ সম্ভব হবে কি? মঙ্গলগ্রহ মানুষের ভাবনায় অমঙ্গল বয়ে আনবে কি?
মোঃ মনসুর আলী,
গবেষক (এস্ট্রোফিজিক্স), পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা৷
No comments yet