পায়ুপথে রক্তৰরণ : কারণ ও করণীয়

আমাদের দেশে শিশু এবং বিশেষ করে বড়দের নানা কারণে মলদ্বার দিয়ে রক্তৰরণ হতে দেখা যায়৷ এটি একটি অতিগুরম্নত্বপূর্ণ  উপসর্গ৷ মলদ্বার দিয়ে রক্তৰরণ কোন রোগ নয় বরং বিভিন্ন রোগের লৰণমাত্র৷ বেশিরভাগ ৰেত্রেই রোগীরা আমাশয় কিংবা পাইলস বলে ভুল চিকিত্‍সা পায়৷ ফলে অনেক ৰেত্রে রোগ জটিলতর হয়৷ মলদ্বার দিয়ে রক্তৰরণ বয়স অনুযায়ী দুটি ভাগে ভাগ করা যায়৷

১. শিশু বা বাচ্চাদের ৰেত্রে

০ রেকটাল পলিপ: শিশুদের রক্তৰরণের এটিই প্রধান কারণ৷ পলিপ দেখতে অনেকটা টকটকে আমের গুটির মতো৷ পায়খানার সময় এই অংশটি বেরিয়ে আসতে পারে৷ তাছাড়া নিম্নলিখিত কারণেও মলদ্বার দিয়ে রক্তৰরণ হতে পারে:

০ এনাল ফিসার ০ ইনটাসসেপশান ০ আমাশয় এবং ০ আঘাতজনিত কারণ ইত্যাদি৷

২. বড়দের ৰেত্রে

০ হেমোরয়েডস (পাইলস): অর্শ নামে এটি অনেকের কাছে পরিচিত৷ পাইলসে সাধারণতঃ পায়খানার পর ব্যথাহীন টাটকা রক্ত যায়৷ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এই সমস্যাকে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকাংশে দূর করা যায়৷ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য ইসুবগুলের ভূষি, প্রচুর পানি, পুঁইশাক, পালংশাক, ফলমূল, সবজি খেতে হবে এবং সেই সাথে চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার বিশেষ উপকারী৷ অনেক সময় পায়ুপথে রক্তবাহী শিরা ঝুলে থাকার জন্য পায়খানার সময় রক্তপাত হয়৷ মেডিক্যাল চিকিত্‍সা ব্যর্থ হইলে সার্জারীর প্রয়োজন হয়৷ যেমন- স্টেপল হেমোরয়ডেক্টমি (ব্যথামুক্ত অপারেশন), ব্যান্ড লাইগেশন ও ইনজেকশন ইত্যাদি৷

০ রেকটাল ক্যান্সার: হঠাত্‍ করে মলত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তন, কখনও কোষ্ঠকাঠিন্য, কখনও ডাইরিয়া, পায়খানার সঙ্গে ব্যথাহীন কালচে রক্ত যাওয়া এ রোগের লৰণ৷ কোলনোস্কোপি (পায়ুপথ এন্ডোসকপি) ও ডাবল কন্ট্রাস্ট বেরিয়াম এনিমা এক্সরে করে এ রোগ ধরা যায়৷ প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ শনাক্তকরণের জন্য অতি দ্রম্নত চিকিত্‍সকের পরামর্শ গ্রহণ আবশ্যক৷

০ ফিসার এৰেত্রে মলের সঙ্গে মিশে রক্ত যায় এবং প্রচণ্ড ব্যথা হয়৷

০ ডাইভারটি কুলাইটিস ও ০ আলসারেটিভ কুলাইটিস ০ পলিপ ০ জন্মগত রক্তনালীর রোগ ০ আমাশয় এবং ০ আঘাতজনিত রোগ এর কারণেও ছোটদের মত বড়দের মলদ্বার দিয়ে রক্তৰরণ হতে পারে৷

এসব রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিত্‍সকরা রোগীর বয়স, রক্ত যাওয়ার ধরন, ব্যথা আছে কিনা, মলদ্বার দিয়ে কোন কিছু বের হয়ে থাকে কিংবা আসে কি না এবং মলত্যাগের অভ্যাস অর্থাত্‍ পায়খানা স্বাভাবিক নাকি কষা, ডায়রিয়া ইত্যাদি আছে কি না জেনে নিন৷

দুঃখের বিষয় এই যে, আমাদের দেশে বেশিরভাগ রোগীই মলদ্বার দিয়ে রক্তৰরণকে বিশেষ একটা গুরম্নত্ব দেয় না৷ ফলে ক্যান্সারসহ অন্যান্য মারাত্মক রোগ জটিল আকার ধারণ করে৷

কাজেই কালবিলম্ব না করে এসব সমস্যা দেখা দেয়ামাত্রই সঠিক চিকিত্‍সকের পরামর্শ নেয়া অতীব জরম্নরী৷

০ ডা: এম এ হাসেম ভুঁইয়া
সহযোগী অধ্যাপক, সার্জারি বিভাগ
জেনারেল ও কলোরেকটাল সার্জন
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা৷
মোবাইল : ০১৭১১৫৩৩৩৭৬

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s