পোশাকের বিবর্তন

পোশাকের বিবর্তন

কোনো পুরোকালে মানব শরীরে পোশাক চড়েছে তার সঠিক দিনক্ষণ বের করা এখন বিসত্মর হ্যাপার কারবার৷ অবশ্য ভুলে যাওয়া কর্তব্য না হলেও দোষের নয়৷ গবেষকরা নিরীক্ষা করে পোশাক আবির্ভাবের মাহেন্দ্রক্ষণের পাশাপাশি একটি সময় বের করেছেন৷ তাতে পোশাকের বয়স ৪০-৭০ হাজার বছরের মধ্যে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ কোন তন\’র পোশাক, তার কমনীয়তা কতোটুকু, এতোটা ভাবনাচিনত্মা প্রথমে ছিল না৷ শীত নিবারণে পশুচর্ম আর গ্রীষ্মে নারী বক্ষে বনফুলের আচ্ছাদন৷ ব্যস ঝামেলা শেষ৷
তবে সময় এখানে থেমে থাকেনি৷ সময় গড়িয়েছে, বেড়েছে প্রয়োজন৷ উদোম শরীর ক্রমেই বাহারি আচ্ছাদনে ঢাকা পড়েছে৷ একে একে মাথার টুপি থেকে পায়ের মোজা৷ সব কিছুই প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ আর এ প্রয়োজন থেকেই গড়ে উঠেছে বিলিয়ন ডলার ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি৷ দোহারা শরীরে বেড়ালের মতো ফ্যাশন মঞ্চে হেলেদুলে যে মেয়েগুলো পোশাকের প্রদর্শন করে তারাই আধুনিক ফ্যাশন বাণিজ্যের ধারক৷ অষ্টাদশ শতকের শুরুতেই তাদের মডগার্ল ট্যাগ লাগতে শুরু করে৷
তবে ফ্যাশন গার্লদের রোশনাই পুরো মাত্রায় বিচ্ছুরিত হতে শুরু করে অষ্টাদশ শতকের শুরুতে৷ যদিও তার আগেই ফ্যাশনের হাওয়া লেগেছে বিস\’র বন্দরে কিন\’ বাণিজ্য লক্ষ্মী তখন ধরা দেয়নি মড গার্লের ৩৬-২৬-৩৬ শরীরি বাঁকে৷ অষ্টাদশ শতকে এসে নিউইয়র্ক, প্যারিস, মিলান, লন্ডন একযোগে বাণিজ্যলক্ষ্মীকে স্থায়ী আসন দিয়েছেন মড গার্লের পিনোন্বত পয়োধরে৷ আর এ সময়েই মডগার্লদের গ্ল্যামারে ভর করে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিও পরিবর্ধিত ও পরিণত হয়েছে৷ ফ্যাশন এজেন্সি বা মডেলদের দিয়ে ক্যাটওয়াকের মাধ্যমে পোশাকের পরিবেশনা প্রাথমিকভাবে শুরু হয় ১৫শ শতকের শেষ দিকে৷ ষোড়শ শতকের শুরুতে জার্মানিতে ফ্যাশন শো প্রায় প্রাতিষ্ঠানিক রূপেই দাঁড়িয়ে যায়৷ এ সময়ে বিশিষ্ট ফরাসি চিত্রকর আলব্রেচর্ট দূরের দশটি স্কেচ পাওয়া গেছে যা বিভিন্ন ভঙ্গিমায় বিচিত্র পোশাকের প্রদর্শন৷ এগুলোকেই ধরা হচ্ছে প্রথম ফ্যাশন শোর স্কেচ৷ তবে ১৫শ শতকের শেষে ফ্রান্সে প্রথম পুরুষের কোটবিষয়ক প্রদর্শনী চালু হয়৷ ধারণা করা হয় এখান থেকেই আজকের রমরমা প্যারিস ফ্যাশন শোর উদ্ভব৷ সপ্তদশ শতকের মাঝামাঝি এসে ইউরোপে ফ্যাশন শো বিষয়টি বেশ গেড়েই বসে৷ এ সময়ের মধ্যে ইতালি, জর্মানি, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠিত ফ্যাশন হাউস গড়ে ওঠে৷ ১৮০০ সালে প্যারিস ফ্যাশন শোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়৷ এ সময়ে প্রকাশিত সুভ্যেনিয়রে জেমস ল্যাভার ও ফার্নান্ড ব্রাউডেলের ডিজাইন করা ওয়েস্টকোট ও ট্রাউজার প্রদর্শনীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে৷ তবে ফরাসি চার্লস ফ্রেডরিক ওর্থের হাত ধরেই আজকের প্যারিস ফ্যাশন স্বর্গে পরিণত হয়েছে৷ বিখ্যাত চ্যানেল, ক্রিশ্চিয়ান ডিওর, ভ্যালেনত্মিনো, গিভেনসির জন্ম এ শহর থেকেই৷ ফ্যাশনের আরেক স্বর্ণ শহর মিলান৷ ইতালির সবচে উন্নত জনপদ লোম্বার্দির পার্শ্ববর্তী মিলানের ফ্যাশন রোশনাই অনত্মত ৫শ বছরের পুরানো৷ উত্‍কৃষ্টমানের সিল্কের কারণে এ শহরের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে মধ্যযুগেই৷ এ শহর থেকেই জন্ম বিখ্যাত ফ্যাশন হাউস জিয়ানি্ন ভার্সেস, প্রাডো, জর্জিও আর্মানি, কোরিয়ের ডেলাসহ বিখ্যাত আরো অসংখ্য ফ্যাশন হাউস৷ প্রতিবছর দুবার এখানে ফ্যাশন উইক হয়৷ আর মিলান ফ্যাশন শো মানে ক্ষীণ কটির মডগার্ল আর মেধাবী ডিজাইনারদের পোশাকের বর্ণিল ঝলক৷ তবে মিলানের ফ্যাশন ইতিহাস যেমন প্রাচীন তেমনি ঋদ্ধ লন্ডনের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি৷ ষোড়শ শতকের শুরু থেকেই লন্ডন পোশাকের জন্য বিখ্যাত৷
বিশ্বজুড়ে পোশাক বাণিজ্যর সবচে বড় অংশ এখন নিয়ন্ত্রিত হয় বিভিন্ন ফ্যাশন শোয়ের মাধ্যমে৷ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্যপতিরা চেয়ে থাকে বিখ্যাত এ শোগুলোর দিকে৷ ৭০ হাজার বছরের বিবর্তনে বনফুলের জায়গা বে-দখল হয়েছে সত্যি তবে সে স্থান পূরণের জন্য এগিয়ে এসেছে লা ভঁগ, ভ্যালেনত্মিনো কোরিয়ের লা ডেল এর মতো বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন হাউসগুলো৷ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখন তারাই বিশ্বের বস্ত্রপতি৷

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s