স্বাধীনতা দিবসে সশস্ত্র বাহিনীর অনন্য স্মরণিকা

80561_1

স্বাধীনতা দিবসে সশস্ত্র বাহিনীর অনন্য স্মরণিকা

স্বাধীনতা লাভের ৩৬ বছর পর এই প্রথমবারের মত মহান স্বাধীনতা দিবসে সশস্ত্র বাহিনীর প্রকাশিত স্মরণিকায় সীমিত আকারে হলেও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে৷ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে ৯ম পদাতিক ডিভিশন পরিচালিত কুচকাওয়াজ উপলৰে প্রকাশিত এই স্মরণিকায় সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রমে মুক্তিযুদ্ধ এবং এর আগে ও পরে যার যেটুকু অবদান ছিল, তা স্মরণিকার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে৷ এই চিরসত্য কাহিনী ও ঘটনা এবং জাতীয় নেতৃবৃন্দের প্রাপ্য মর্যদা তুলে ধরায় দেশ-বিদেশে তা প্রশংসিত হয়েছে৷ আবার দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণিত হলো, দেশের গর্বিত সশস্ত্র বাহিনী কোন দলের বা গোষ্ঠীর নয়৷ যেকোন ক্রানত্মিলগ্নে সশস্ত্র বাহিনী দেশ ও জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে৷ জাতীয় উন্নয়নে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল অবদান আজ সর্বজন স্বীকৃত৷ সশস্ত্র বাহিনী এমনি এক বাহিনী যার প্রতি এদেশের জনগণের রয়েছে অগাধ আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা৷ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উদ্ধার ও ত্রাণ তত্‍পরতা ছাড়াও দেশের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ছিন্নমূল মানুষের জন্য বাসস্থান তৈরি করে দেয়া এবং অন্যান্য জনকল্যাণমুখী কাজে প্রতিনিয়ত সশস্ত্র বাহিনী নিবেদিতপ্রাণ৷

শুধু দেশেই নয়, বিদেশের মাটিতে এদেশের সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকাণ্ড বিশ্বের সকল দেশের শীর্ষ স্থানে রয়েছে৷ যার প্রশংসায় পঞ্চমুখ জাতিসংঘ৷ জাতিসংঘের শানত্মিরৰী মিশনে সিয়েরালিয়ন, লাইবেরিয়া, আইভরিকোষ্ট, কঙ্গো, সোমালিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশী সশস্ত্র বাহিনী নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি ঐ সকল দেশের আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ এবং অসহায় মানুষের পুনর্বাসনে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন৷ নিষ্ঠার সঙ্গে শানত্মিরৰী মিশনে দায়িত্ব পালন ও অসহায় মানুষের সেবা প্রদানে বিশ্বের সকল দেশের সেনাবাহিনীর শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী৷ মিশনে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও সুনাম অর্জন করে যাচ্ছেন৷ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কার্যক্রমে সিয়েরালিয়নবাসি মুগ্ধ৷ এ কারণে সিয়েরালিয়নবাসির দ্বিতীয় ভাষা বাংলা৷ সেই দেশে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে৷

এ বছর মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে ৯ পদাতিক ডিভিশন পরিচালনায় সশস্ত্র বাহিনী কতর্ৃক প্রকাশিত স্মরণিকার প্রথম পৃষ্ঠায় গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদর্ী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, মাওলানা ভাসানী, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএ জি ওসমানি ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মাঝখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি রয়েছে৷ পাশে মুক্তিযুদ্ধে বাংলার দামাল ছেলেদের পাক হানাদার বাহিনীর বিরম্নদ্ধে লড়াইয়ের একটি চিত্র এবং স্বাধীনতা যুদ্ধকালের জাতীয় পতাকা রয়েছে৷ এই দৃশ্যই প্রমাণ করে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরম্ন করে মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতীয় নেতাদের মধ্যে কিংবা তারও আগে এই দেশের পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীকে হটানোর জন্য যার যেটুকু অবদান, তাই ফুটে উঠেছে৷

স্মরণিকার ভূমিকায় ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে যার যেটুকু অবদান এবং প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হয়েছে৷ গত ৩৬ বছরে এই ধরনের সত্য প্রকাশে সশস্ত্র বাহিনী যে নজির সৃষ্টি করলো তা অতুলনীয়৷ যে মহলটি মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা আড়াল করে প্রকৃত সত্যকে গোপন রেখে মিথ্যার দিকে জাতিকে নিয়ে যাচ্ছিল, এ স্মরণিকায় প্রকৃত সত্য তুলে ধরায় ঐ মহলটিকে একটি দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হলো৷ সর্বোপরি স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস কুচকাওয়াজে সেনাবাহিনী প্রধান লেঃ জেনারেল মইন ইউ আহমদের বক্তৃতায় প্রকৃত সত্য প্রকাশ পায়৷ তার বক্তৃতা দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে৷ স্মরণিকায় সশস্ত্র বাহিনী ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা কন্টিনজেন্ট, বাংলাদেশ রাইফেল, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, বাংলাদেশ পুলিশ, ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর ও আনসার এবং গ্রাম প্রতিরৰা দলের কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণের চিত্র তুলে ধরা হয়৷

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s