শারীরিক দুর্বলতায়

স্বাভাবিকভাবেই বেশি কাজ করলে আমরা পরিশ্রানত্ম হয়ে পড়ি এবং দুর্বল বোধ হয়৷ আবার বিশ্রাম নিলে দুর্বলতা কেটে যায়৷ কিন্তু অনেকের ৰেত্রে এমন হয় যে, খুব অল্পতেই দুর্বল হয়ে পড়ে৷ নানা রকম অসুখের কারণেই এমন অস্বাভাবিক দুর্বলতা হতে পারে৷ জেনে নেয়া যাক কোন কোন অসুখের কারণে এমন সমস্যা হয়ে থাকে৷

ইনফেকশাস মনোনিউক্লিওসিস

ইপস্টেপবার ভাইরাসের সংক্রমণে এই অসুখ হয়৷ একে কিসিং ডিজিজও বলে৷ হাঁচি, কাশির মাধ্যমে মনোনিউক্লিওসিস সংক্রমিত হয়৷ এতে হঠাত্‍ করে অত্যনত্ম দুর্বল বোধ হয় এবং ঘুম ঘুম ভাব হয়৷ এছাড়া জ্বর, গলাব্যথা, মাথাব্যথা, অরম্নচি, মাংসপেশীতে ব্যথা হতে পারে৷ এতটাই দুর্বল বোধ হয় যে কিছুই করা সম্ভব হয় না৷

মানসিক বিষাদ

মানসিক বিষাদ আপনার দুর্বলতার কারণ হতে পারে৷ অল্পতে বিরক্তি এবং কাজে অনীহার কারণ দুর্বলতা৷ খুব কম খাওয়া ও মানসিক বিষাদের একটি লৰণ৷ এ থেকেও দুর্বলতা বাড়তে পারে৷ এছাড়া খুব ঘুম বা অতিমাত্রায় ঘুম দুর্বলতা বাড়িয়ে তোলে৷

মালটিপ্ল স্কেরোসিস

এটি একটি অটোইমিউন স্নায়বিক অসুখ৷ সাধারণত অল্প বয়সের রোগীরাই এতে বেশি আক্রানত্ম হন৷ সারারাত ঘুমানোর পরেও সকালে দুর্বল বোধ হয়৷ সামান্য কাজ করতেও প্রচুর সময় দিতে হয়৷ এমনকি রোগী এত বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে যে মাথা ঝিমঝিম লাগে৷ ঠিকভাবে হাঁটতে পারে না৷ হাত পা অবশ লাগে ও চোখে দেখতে সমস্যা হয়ে থাকে৷

কিডনির অসুখ

কিডনির কাজ হচ্ছে রক্তের অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ শরীর থেকে বের করে দেয়া৷ কিন্তু কিডনি ঠিকমত কাজ না করলে শরীরে নানা বিষাক্ত পদার্থ জমতে থাকে৷ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদির কারণে কিডনির অসুখ হয়ে থাকে৷ কিডনির অসুখের কারণেও উচ্চ রক্তচাপ, রক্তশূন্যতা, হাড়ের ভঙ্গুরতা, স্নায়ুরৰয় ইত্যাদি হতে পারে৷

কিডনির অসুখে আপনি অতি দ্রম্নত দুর্বল হয়ে পড়তে পারেন৷ দিনের শেষে দুর্বলতা বাড়ে ও শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়৷ এছাড়া ওজন কমে যাওয়া, অরম্নচি, বমি ভাব, বমি, হাত-পা ফুলে যাওয়া ও প্রস্রাবের সমস্যা কিডনির অসুখের লৰণ৷

সস্নিপ এপনিয়া

ঘুমের মাঝে হঠাত্‍ শ্বাসপ্রশ্বাস কিছুৰণের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়াকে সস্নিপ এপনিয়া বলে৷ ১০ থেকে ২০ সেকেন্ডের জন্য এমন হয়ে থাকে৷ সস্নিপ এপনিয়া থেকে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, এমনকি স্ট্রোক হতে পারে৷

সস্নিপ এপনিয়া হলে দিনের বেলা প্রচণ্ড ক্লানত্ম বোধ হয় এবং ঘুমিয়ে পড়তে ইচ্ছে হয়৷ এছাড়া কাকডাকা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথা ব্যথা হওয়া, রাতে বার বার প্রস্রাব হওয়া এবং মন:সংযোগ কমে যেতে পারে৷

হেপাটাইটিস সি

হেপাটাইটিস সি ভাইরাস দ্বারা লিভারের অসুখ হয়৷ এই রোগে আক্রানত্ম ব্যক্তিরাও দুর্বল বোধ করেন৷ মনঃসংযোগেও সমস্যা হয় এবং হাত-পা ব্যথা হয়৷ এছাড়া পেটে ব্যথা, অরম্নচি, বমিভাব, জ্বর এবং জন্ডিস অন্যান্য লৰণ৷

হাইপোথাইরয়েডিজম

থাইরয়েড হরমোনের অভাবে এ রোগ হয়৷ থাইরয়েড হরমোন শরীরের বিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে৷ থাইরয়েডও হরমোন কমে গেলে বিপাক ক্রিয়া কমে যায়, এতে করে শরীর অল্পতে দুর্বল হয়ে পড়ে৷ এছাড়া শরীরের ওজন বাড়তে থাকে, চামড়া রম্নৰ হয়ে পড়ে, চুল পড়ে যায়, মানসিক বিষাদ থাকে৷ মহিলাদের ৰেত্রে মাসিকের অনিয়ম দেখা দেয়, হাইপোথাইরয়েড রোগীর কাজকর্মের গতি খুবই কমে যায় ও দিনভর ক্লানত্ম থাকে৷

এনিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা

রক্তস্বল্পতা হলে শরীর তার প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পায় না৷ নানা কারণে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে৷ সাধারণত আয়রন, ফলিক এসিড ও ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতিজনিত কারণে এনিমিয়া হয়৷ এছাড়া মহিলাদের মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তস্রাব ও এনিমিয়ার কারণ, কিডনির অসুখ, কিংবা অন্যান্য অসুখও এনিমিয়ার কারণ হতে পারে৷

এনিমিক রোগী অল্পতে বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে, প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করতে পারে না৷ স্বাভাবিক চলাচলেও ক্লানত্ম বোধ করে৷ যেমন সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠা, বাজার করা কিংবা রান্না করা৷ এ ধরনের রোগীর অল্পতে ঠান্ডা বোধ হওয়া, ফ্যাকাশে দেখতে, শ্বাসকষ্ট এবং বুকে ব্যথা অনুভব হতে পারে৷

ডায়বেটিস

রক্তে চিনি বা সুগার সাধারণ মাত্রার থেকে বেড়ে গেলে তাকে ডায়বেটিস বলা হয়৷ উচ্চ চিনি বা সুগার শরীরের সব অঙ্গ-প্রতঙ্গের জন্যই ৰতিকর৷ ক্লানত্মিবোধ থেকেই অনেক সময় ডায়বেটিক রোগীর রোগ নির্ণয় করা হয়৷ ডায়াবেটিক রোগী ঘন ঘন প্রস্রাব করে, প্রচুর তৃষ্ণা ও ৰুধা হয়, সেই সাথে ওজন কমতে থাকে৷ এরা দুর্বল বোধ করে প্রায় দিনের সব সময়৷ কোনভাবেই ক্লানত্মিভাব দূর করা সম্ভব হয় না৷

ফাইব্রোমায়ালজিয়া

এই অসুখে হাত পায়ে দুর্বল বোধ হয় সেই সাথে ব্যথাও হয়৷ শরীরের নানা জায়গায় অবশ বোধ হয় এবং ক্লানত্মি থাকে ও ঘুম হয় না৷ ঘুমিয়ে পড়লেও ঘুম থেকে ওঠার পরে মনে হয় ঘুম হয়নি৷ সামান্য কাজও করতে ইচ্ছে বোধ হয় না৷ হাত ও পায়ের মাংসপেশীর সাথে সাথে অস্থিসন্ধিও ব্যথা হয়৷ ব্যথা খুব তীব্র হয় এবং জালাপোড়াও থাকতে পারে৷ মানসিক অবসাদ, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ব্যথা ইত্যাদিও ফাইব্রোমায়ালজিয়াতে হয়৷ এই অসুখে দৈনন্দিন কাজে পর্যনত্ম ব্যাঘাত ঘটে৷ দিন শুরম্ন ও শেষ হয় বিষাদ, অবসাদ ও ক্লানত্মি দিয়ে৷

সুতরাং দুর্বল বোধ হলে অবহেলা করবেন না৷ কোন না কোন অসুখের কারণে দুর্বলতা বা ক্লানত্মি হতে পারে৷ কিছুদিন অস্বাভাবিক দুর্বল বোধ হলে অবশ্যই চিকিত্‍সকের পরামর্শ নিন৷

০ ডা. ওয়ানাইজা

আয়ুব ক্লিনিক

৪৬-৪৭, জনসন রোড, ঢাকা

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s