দেহ-মন : ‘বিষণ্নতা’ নারী জীবনের অশনি সংকেত

শরীর ও মন একই সত্তার পৃথক দুটি অবস্থান৷ একটির ওপর চাপ পড়লে আপনা-আপনিই অন্যটিতে গিয়ে লাগে৷ তা সে হোক ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক৷ তাই সুস্থ জীবনযাপনে শরীর ও মন উভয়েরই সমানতালে সুস্থ-সবল হওয়া চাই৷ এ ধরনের কথা এর আগেও বহুবার শোনা গেছে৷ কিন্তু এ সম্পর্কে ভয়ঙ্কর এক তথ্য জানিয়েছেন একদল বিজ্ঞানী৷ তাদের মতে, বিষণ্নতা নারী জীবনের জন্য এক অশনি সংকেত৷ ভয়ঙ্কর পরিণতির আগাম বার্তাবাহক৷ কেননা মানসিক বিষণ্নতার সঙ্গে রয়েছে হাড় ও অস্থি ৰয় বা ভঙ্গুরের যোগসূত্র৷

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব মেন্টাল হেলথের একদল বিজ্ঞানী সম্প্রতি মেনাপোজ বা রজোনিবৃত্তি পূর্ববতর্ী কিছু মহিলার ওপর সমীৰা চালান৷ ব্যাপক পরীৰা-নিরীৰা শেষে তারা আতংকজনক কিছু তথ্য উপস্থাপন করেন৷ তাদের ভাষায়, রজোনিবৃত্তি পূর্ববতর্ী সময়ে অধিকাংশ মহিলা মানসিক বিষণ্নতায় ভোগে৷ এ সময় তাদের ইমিউন সিস্টেম বা প্রতিষেধক ব্যবস্থা অতিমাত্রায় ত্রিয়াশীল হয়ে ওঠে৷ ফলে দেহে উত্‍পন্ন হয় মাত্রাতিরিক্ত কিছু রসায়ন৷ যার মধ্যে একটির নাম আইএল-৬, যা প্রদাহ থেকে হাড় ৰয়ের দিকে নিয়ে যায়৷ গবেষণায় দেখা গেছে, রজোনিবৃত্তি পূর্ববতর্ী বিষণ্নতায় আক্রানত্ম ১৭ ভাগ মহিলার মধ্যে এ প্রবণতা লৰ্য করা যায়৷ ব্যতিক্রমী ঘটনা বিরল৷ অর্থাত্‍ যে কোন বয়সে এবং রজোনিবৃত্তির আগে ও পরে এ ধরনের ঘটনা মাত্র ২ ভাগ৷ গবেষকরা জানান, এমন পরিস্থিতিতে হাড় পাতলা হয়ে যায়৷ বিশেষ করে কটি দেশের অবস্থা হয়ে পড়ে নাজুক৷ কোন কোন ৰেত্রে কটিদেশের অস্থি ভেঙ্গেও যেতে পারে৷ ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব মেন্টাল হেলথের পরিচালক ড. রিচার্ড নাকামুরা বলেন, অস্থিৰয় একটি নীরব ঘাতক ব্যাধি৷ সহসা এ রোগের উপসর্গ ধরা পড়ে না৷ অনেক সময় অস্থিৰয়ের শেষ প্রানত্মে এসে এটি ধরা পড়ে৷ তখন করার কিছু থাকে না৷ আমরা জানি যে, বিষণ্নতা আক্রানত্ম মহিলারা হাড় ও অস্থিৰয়ের ঝুঁকিতে থাকে৷ তবে মনে রাখা দরকার রজোনিবৃত্তির আগের চেয়ে পরে ঝুঁকি আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায়৷

এদিকে আর্কাইভস অব মেন্টাল মেডিসিন পরিচালিত এক সমীৰায় জানা গেছে আরো ভয়ংকর তথ্য৷ সে মতে বিষণ্নতায় আক্রানত্ম ২১ থেকে ৪৫ বছর বয়স্ক ৮৯ জন এবং সুস্থ ৪৪ জন মহিলার ওপর সমীৰা চালিয়ে দেখা গেছে, মহিলাদের মধ্যে অর্ধেকের অস্থিৰয় ঝুঁকি রয়েছে৷ পৰানত্মরে পঞ্চাশোধর্্ব পুরম্নষদের এ ঝুঁকি প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন৷ অবশ্য এর আগে বিষণ্নতায় আক্রানত্ম মহিলারা আরোগ্য লাভের আশায় যে ওষুধ সেবন করে থাকেন তাকেই অস্থি পাতলা হওয়ার জন্য দায়ী করা হতো৷ সর্বশেষ গবেষণায় দেখা দেছে, অস্থিৰয়ে বা পাতলা হওয়ার সঙ্গে এন্টি ডিপ্রেসেন্ট ওষুধের কোন যোগসূত্র নেই৷ যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল অস্টিওপরোসিস সোসাইটির পৰ থেকে বলা হয়েছে উলিস্নখিত রোগ সম্পর্কে অনেক কিছুই এখনও অজানা৷ এসব সম্পর্কে আরো নিবিড় গবেষণা হওয়া দরকার৷

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s