রাজবাড়ীর ব্যবসায়ী শ্রীনগরে খুন : আপন মামীর সাথে পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক!

আরিফ হোসেন: রাজবাড়ীর ব্যবসায়ী সোহাগ ঢালী (২৫) শ্রীনগরে খুনের নেপথ্যে তার আপন মামীর সাথে পরকিয়া সম্পর্কের জের বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। অনেক দিন ধরে সোহাগ ঢালীর আপন মামা দুবাই প্রবাসী জাকির হোসেনের স্ত্রী নুপুর আক্তার (২২) তার দুলাভাই ফরহাদ হোসেনের স্বার্থ হাসিলের জন্য সোহাগ ঢালীর সাথে পরকিয়ায় প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে।

গত ২৯ ডিসেম্বর পরকিয়ার টানে সে তার মামী নুপুরের ডাকে রাজবাড়ী থেকে শ্রীনগরে আসে। হত্যাকান্ডের মুল নায়ক নুপুরের অপর পরকিয়া প্রেমিক তারই বড় বোনের স্বামী উপজেলার কোলাপাড়া এলাকার হোসেন ড্রাইভারের ছেলে ফরহাদ। পুলিশ জানায়, মোবাইল কল লিষ্টের সূত্র ধরে গত শনিবার রাতে ফরহাদের ছোট ভাই উজ্জলকে গ্রেপ্তারের পর হত্যাকান্ডের রহস্য বের হয়ে আসে। এঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফরহাদের শশুড়-শাশুড়ীকে উপজেলার ব্রাক্ষ্মন খোলা থেকে আটক করে। তবে ফরহাদ ও নুপুর পলাতক রয়েছে।

পুলিশ জানায়, হত্যার মূল পরিকল্পনা কারী ফরহাদ আতœীয়তার সূত্রধরে সোহাগের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে। একসময় সোহাগের টাকা-পয়সার দিকে নজড় পরে তার। একাজে ফরহাদ তার শ্যালিকা নুপুরকে ব্যবহার করে। ফরহাদের প্ররোচনায় নুপুর তার স্বামীর আপন ভাগনে সোহাগের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলে। নুপুর ও সোহাগের কললিষ্টে দেখা যায় তারা অনেকদিন ধরে দিনে বহু বার অনেক সময় নিয়ে কথা বলেছেন। গত ২৯ ডিসেম্বর নুপুর সোহাগকে রাজবাড়ী থেকে শ্রীনগরে ডেকে আনে। সোহাগের চাচা অভিযোগ করেন গত এক বছরে ফরহাদ ও নুপুর সোহাগের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।

পুলিশ জানায়, নিখোঁজের চারদিন পর গত ২ জানুয়ারী শ্রীনগর এলাকার ঢাকা-নওপাড়া সড়কের বেজগাও এলাকা থেকে সোহাগ ঢালী (২৫) এর লাশটি উদ্ধার করে। সে রাজবাড়ী সদরের সোহাগ গার্মেন্টের মালিক। সোহাগের পারিবারিক সূত্র জানায়, সোহাগ ঢালীর পৈত্রিক নিবাস ও নানার বাড়ী শ্রীনগর উপজেলার দামলা গ্রামে। সোহাগ ঢালীর বাবা ইউনুস ঢালী অনেক বছর আগে পরিবার পরিজন নিয়ে রাজবাড়ী চলে যায়।

গত ২৯ ডিসেম্বর বিকালে সোহাগ ঢালী শ্রীনগর এলাকায় এসে তার চাচাতো ভাই ইসলামী ব্যাংক শ্রীনগর শাখার কর্মকর্তা নাঈমের সাথে দেখা করে তার সাথে মাওয়া এলাকায় যায়। সেখান থেকে শ্রীনগর ফেরি ঘাট এলাকায় আসার পর সোহাগ ঢালী ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে নাঈমকে দামলা যাওয়ার জন্য বাসে তুলে দেয়। এর পর থেকে সোহাগ ঢালীর সন্ধ্যান পাওয়া যাচ্ছিলনা।

এঘটনায় রাজবাড়ী থানায় গত ৩০ ডিসেম্বর একটি সাধারণ ডাইরী করে এর কপি গত ৩১ ডিসেম্বর শ্রীনগর থানায় এনে জমা দেয় সোহাগ ঢালীর পরিবার। এর তিনদিন পর সোহাগের লাশটি পাওয়া যায়। লাশটি পাওয়ার পরপরই তদন্তে নামে পুলিশ।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীনগর থানার ওসি(তদন্ত) মুজিবুর রহমান জানান, মোবাইল কল লিষ্টের সূত্র ধরে সোহাগ হত্যার রহস্য পুলিশের কাছে পরিষ্কার হয়ে উঠে। ফরহাদ ও নুপুরকে গ্রেপ্তারের পর হত্যাকান্ডের বিষয়ে পুরোপুরি ভাবে জানা যাবে।

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.