পোটলা বাহিনীর আতংকে শহরবাসী!

এম.এম.রহমান: মুন্সীগঞ্জ শহরে মোবাইল চোর ও প্রতারক পোটলা বাহিনীর আতংকে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে মুন্সীগঞ্জ শহরবাসী । প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন স্থানে মোবাইল চুরি এবং হাতে লবনের পোটলা ধরিয়ে নিরীহ মহিলাদের সর্বস্থ নিয়ে যায় একটি চক্রটি। গত- কয়েক মাসে শহরে শতাধিক মোবাইল ছিনতাই ও ১৫ জন মহিলা এসব পোটলা বাহিণীর শিকারে পরিনত হয়েছে । চক্রটি পথযাত্রী মহিলা বা কন্যা শিশুদের হাতে একটি লবনের পোটলা ধরিয়ে দিয়ে বলে চাচী বা খালা আমার পোটলাটা একটু ধরেন তো । আবার অনেক সময় পিছন থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে নিজেরাই টেনে তোলে এ সুযোগে তাদের কাংখিত কাজটি সেরে ফেলে । যখন সাধারন মানুষ এ বস্তুটা হাতে নেয় তখন তারা বাহিজ্যিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

এ সুযোগে প্রতারক চক্র মহিলাদের শরীরে থাকা স্বর্নালংকার টাকা পয়সা, মোবাইল সহ আনুসাঙ্গিক সব নিয়ে যায় । মহিলা পোটলা বাহিনীর শিকারে পরিনত হয় সাধারনত পথচারী মহিলারা আর পুরুষ ছিনতাইকারীদের শিকারে পরিনত হয় সব বয়সের মানুষ। তাছাড়া মুন্সীগঞ্জের ব্যস্ততম রাস্তা লঞ্চঘাট, মুন্সীগঞ্জ বাজারের মার্কেটের সামনে, পুরাতন কাচারী, কলেজপাড়া, আদালতপাড়াসহ শহরের ব্যস্ততম রাস্তায় প্রতিনিয়ত সাধারন পথযাত্রী মহিলারা পোটলা বাহিনীর শিকারে পরিনত হন।

এছাড়া মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে টাকা পয়সা ও মোবাইল চুরি নিত্য নৈমত্বিক ঘটনা। অন্যদিকে শহরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনের ফটোকে, মৎস্য কার্যালয়ক্ষেত ফিশারিতে আসা সাধারন মানুষকে আটকে রেখে টাকা পয়সা, মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

তাছাড়া পোটলা বাহিনীর প্রতারনার নানা অভিযোগ বিশেষ করে শহরের বিভিন্ন মার্কেট, হাসপাতাল, রেস্টুরেন্টসহ ব্যস্ততম রাস্তায়, লঞ্চঘাট, মুন্সীগঞ্জ কাঁচাবাজারের আশপাশ এলাকা। অন্যদিকে প্রতিদিন ভোর সকালে বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষ শাররীক ব্যায়াম ও হাঁটা হাঁটি করার জন্য বের হলে বিভিন্ন সময়ে ছিনতাইকারী ও নেশাখোরদের শিকারে পরিনত হয়।

কিন্তু ঘটনা ঘটার পর পুলিশী ঝামেলা এরাতে থানায় গিয়ে নিয়মিত অভিযোগ না দেয়ার কারনে দিন দিন এর প্রভাব বিস্তার বাড়ছে। ৬ জানুয়ারি দিবাগত রাতে মুন্সীগঞ্জ শহরের উ: ইসলামপুরের প্রবীন সাংবাদিক শেখ আলী আকবরের ঘর থেকে একটি নোকিয়া ও একটি স্টিল মোবাইল সেট ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তাছাড়া মুন্সীগঞ্জ বাজারের প্রধান সড়কে নাছিমা বেগম (৩০) নামের এক পথচারী মহিলাকে হাতে একটা পোটলা ধরিয়ে দিয়ে মোবাইল, নগদ টাকা এবং স্বর্নালংকার নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী আরেক মহিলা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় একটি মহিলা আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল পরে দেখলাম মহিলা নিজেই আমার কানের, গলার জিনিস এবং হাতের মোবাইল নিয়ে যাচ্ছে আমি অবাক চোখে দেখলাম এর ২ ঘন্টা পর আমার উপস্থিত জ্ঞান ফিরে পাই। এসব অপরাধ অপ-কর্মের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে পুলিশ এমনটাই দাবী সাধারনের।

এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদারের সাথে ফোন আলাপকালে তিনি বলেন, এ ধরনের কোন ঘটনা আমার জানা নেই। ভুক্তভোগীরা এ ধরনের কোন ঘটনার শিকার হয়ে থাকলে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন তিনি।

চমক নিউজ