গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সাত দিনের মাথায় মামলা নিল পুলিশ

শ্রীনগরে স্কুলছাত্রী সহ দুই কিশোরীকে আটকে রেখে রাতভর ধর্ষণ
আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে বৈশাখী মেলা থেকে বাড়িতে ফেরার পথে স্কুল ছাত্রীসহ দুই কিশোরীকে রাতভর আটকে রেখে ধর্ষণের ঘটনার সংবাদ বিভিন্ন গন মাধ্যমে প্রকাশের পর তরিঘরি করে সাতদিনের মাথায় গত বুধবার রাতে মামলা নিয়েছে পুলিশ। অথচ ঘটনার পরদিনই শ্রীনগর থানা পুলিশকে বিষটিকে জানিয়ে ছিল স্থানীয়রা। ঘটনাটি জানার পরও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল মামলা না নেওয়ার। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের পরপরই পুলিশ দুই কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে এক কিশোরীর মা দুই ধর্ষকে আসামী করে শ্রীনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে রহস্যজনক কারনে ধর্ষকদের সহযোগীদেরকে মামলায় আসামী করা হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ওই দুই কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মুন্সীগঞ্জ জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। রাতভর ধর্ষনের শিকার দরিদ্র পরিবারের ওই দুই কিশোরী পরদিন সকালে অসুস্থ্য অবস্থায় কোন মতে বাড়িতে ফিরলেও স্থানীয় মাতবররা মামলা না করার জন্য তাদেরকে সামাজিক ভাবে চাপে রেখেছিল।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার বালাসুর নতুন গ্রামের এক কিশোরী (১৫) তার প্রতিবেশী বানিয়াবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর আরেক ছাত্রীকে (১৩) নিয়ে ১ বৈশাখ বিকালে প্রায় তিন কিলোমিটার দুরে স্যার জে,সি,বোস ইনষ্টিটিউশনে বৈশাখী মেলায় যায়। সেখানে সন্ধ্যা হয়ে গেলে ওই দুই কিশোরীর প্রতিবেশী আবুল মুন্সীর ছেলে আকাশ (২২), তারামিয়ার ছেলে রুমান (২১) ও আজিবর শেখের ছেলে আ: রহমান (২৩) তাদেরকে একই সাথে বাড়িতে ফেরার প্রস্তাব দেয়। বখাটেদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে দুই কিশোরী রাত আটটার দিকে তিন বখাটের সাথে একটি ইজি বাইকে করে বালাসুর নতুন গ্রামের দিকে রওনা দেয়। ইজি বাইকটি রাত সাড়ে আটটার দিকে বানিয়া বাড়ী নামক স্থানে আসলে বখাটেরা কৌশলে দুই কেশোরীকে হানিফ মাদবরের বাগানবাড়ীর নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে বখাটেরা কিশোরীদের মুখ চেপে ধরে গলা টিপে হত্যার ভয় দেখিয়ে রাতভর ধর্ষণ করে। শেষ রাতের দিকে বখাটেরা দুই কিশোরীকে বাগান বাড়ীতে রেখে সটকে পড়ে।

পরদিন সকালে কিশোরীদেরকে অসুস্থ্য অবস্থায় বাগান বাড়ী থেকে উদ্ধার করা হয়। ওই দিনই এলাকার মাতব্বর জিল্লা ফকির, জাকির ও আকাশের বাবা আবুল মুন্সী ধর্ষিতাদের বাড়িতে এসে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে এবং মামলা না করতে হুমকি দেয়। ওই দিনই স্থানীয় নিজাম খোরা ঘটনাটি শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাহিদুর রহমানকে মোবাইল ফোনে জানান। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ৬ দিন পার হলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি । তবে ওসি অভিযোগটি অস্বীকার করেন। পঞ্চম শ্রেণীতে পড়–য়া কিশোরীর মা অভিযোগ করেন, ধর্ষণের আলামত রেখে দিয়েছি কিন্তু আমরা গরীব বলে আমাদের পাশে এসে কেউ দাড়ায়নি। এলাকার মাদবরদের ভয়ে থানায়ও যেতে পারিনি। অপর কিশোরীর ভাই কান্না জড়িত কন্ঠে এঘটনার উপযুক্ত বিচার দাবী করেন।

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s