বউ কথা কউ – ব.ম শামীম

জানলার চারপাশে সূর্যের আলোর তির্ষক বর্ষণ। বাতাসে গাছের পাতার সাথে আলোগুলো দোল খাচ্চে। কখনো গাছের ডালা ও পাতাগুলো আলোগুলোকে এদিকে সেদিক নিয়ে যাচ্ছ। গ্রীস্মের প্রচন্ড গরম তারপরেও দক্ষিনা প্রলয়ের হিমশিম বয়ে যাওয়া নিরন্তর। জানালার ভিতর দুষ্ট বাতাসের অকারনে তিব্র আনাগোনা। এ যেন প্রিয়সির কমল পরসের চেয়ে তৃপ্তির এক অপূর্ব ছোয়া। যার স্পর্শে দেহমনে শিহরণ জাগে। শেষ রাতের ¯œীগ্ধ পরস যদিও সারা দেহ নিঘুর ঘুমে দেহটিকে আবৃত্ত করে রাখে কিন্তু ওই পরস একখন্ড মাংস পিন্ডকে উত্তপ্ত করে তুলে। রাতের শেষ ভাগ হলেই মাংস পিন্ডটির উত্তাপ বাড়ে ।

কি যেন নাই কিশের এক অপূর্ণতা বিছানার বুকে হাহাকার তুলে। যদিও ভোরের সূর্য ফুটে উঠার অনেক পরেও এই দক্ষিনা সমিরন প্রলুদ্ধ করে বিছানার সাথে প্রেম আর মিতালী গড়ে দিয়ে যায়। কিন্তু তার শীতল কোমল স্পর্শে নারীদেহের সাথে কোথায়ও যেন মিল আছে মনে হয়। তাহলে শীতলতা আর স্পর্শকতাইকি পরুষের যৌনতাকে উদ্ধিগ্ন উন্মুক্ত করে তুলে। সুর্যের তির্যক আলোর খেলা জানালা জুড়ে চেয়ে দেখে আর শুয়ে শুয়ে ভাবে নিলয়।

ভোরের দোয়েল শীষ দেওয়ার পালা যদিও তখন শেষ তবে জানালার পাশে ছোট আম-গাছটায় বসে টুনিটুনি পাখির টুনটুন শব্দ দু-একটি শালিকের অকারনে চেচামেচি আর ঘুঘু পাখির ওই অনেক দুরে ডাকাডাকির শব্দটা তখনও কর্ণকহরে প্রবেশ করে। কর্কস ভাষায় কাকদের অকারনে বকবকানিটা উদ্যাম স্বপ্নের মধ্যে বাধ সাঁজে। বিভোর স্বপ্নগুলো আর ভালোলাগার ভালোবাসার সোনালি অতিতের স্বপ্নের ভিড় হতে কাকের ককর্ষ ধ্বনিগুলো তার জীবনের কর্কষ প্রেমের প্রতিচ্ছবি জাগিয়ে তুলে। তির্ষক শব্দ তুলে বউ কথা কউ শুরে পাখিটি নিজ আঙিনার উচ্চ দেবদারু গাছটার মধ্যে বসে ডাকে।

এ পাখিটা নাকি অন্য কোনটা জানানেই নিলয়ের এক যুগেরও অধিকাল ধরে এই গাছটায় ও তার চারপাশে বৈশাখ এলেই অকারনে গলা ফাটিয়ে চেচাঁমেচি শুরু করে। উন্মুক্ত বিছানায় একা একা শুয়ে নিলয় কিসের যেন শূণ্যতা অনুভব করে। কি যেন নাই কি যেন নাই তার কি যেন জীবনে অসিম প্রয়োজন। শরীর ওই মাংসের পিন্ড হৃদয়ের হাহাকারের সাথে এক হয়ে সোজা হয়ে দাড়িয়ে আর্তনাদ করে । কোন এক জন্মে কে যেন তার কাছে থাকার কথা ছিলো পাশে থাকার কথা ছিলো এই উন্মত্ত সকালে সিন্ধ পরস দেওয়ার কথা ছিলো কই সে?

অভাবের বোঝাটা যেন হাহকার হয়ে আর্তনাদ করে। কিসের অভাব যেন বুকের মধ্যে আর্তনাদের দুমরে উঠা ভাসা খুঁজে। বউ কথা কউ পাখিটির আর্তনাদ যেন গগনে স্ফুলিগের ন্যায় শব্দ তুলে। এই আর্তনাদ যেন নিলয়ের বুকে প্রলয় তুলে। পাখিটি যখন উচ্চ স্বরে বউ কথা কউ শব্দ তুলে তখন নিলয়ের কানে সেই সর্বগ্রাসীর একটি শুর কানের মধ্যে বাজে বলো বউ কথা বলছে পাখিটাকে বলো বউ কথা বলছে। গ্রীস্ম এলে যখন বউ কথা কউ পাখি ডাকতো শ্যামলীর সাথে যখন কথা হতো নিলয়ের তখন শ্যামলী এই কথাগুলো বেশ করে বলতো তাকে।

যদিও অনেক গ্রীস্ম প্রেরিয়ে গেছে এই কথাগুলো শ্যামলীর মুখ হতে শুনা হয়নি নিলয়ের। আর শুনবে কেমন করে শ্যামলী এখন অন্যের ঘরের বৌ। যদিও অনেকদিন হয় শ্যামলীর সেই আবেগ মিশ্রিত কন্ঠের ধ্বনিটি শুনেনা নিলয়। তারপর বৈশাখ এলেই দক্ষিনা বাতাসের ¯িœগ্ধ সমিরন আর বউ কথা কউ পাখির অকারনে গগণ বিদারক ধ্বনি নিলয়কে একটা অভাববোধে বিদ্ধ করে ক্ষত বিক্ষত করে তুলে। যে কন্ঠ নিলয় ভূলে থাকতে চায় যে স্মৃতি একটি অবেগী উচ্চ বিলাসী মেয়ের খাম-খেয়ালী কন্ঠের ছলনায় নিলয়ের জীবনটা দুংসহ যন্ত্রনায় জর্জরিত করে রেখেছে। যুগেরও অধিক সময়ের ভালোবাসাকে যে নিমিসে নির্বাসন দিয়ে আন্যের সাথে ঘর বেধেঁছে। তাকে নিলয় শুধু ঘৃনাই করতে চায়।

তারপরেও বউ কথা কউ পাখির গগণ কাপাঁনো ধ্বনি আর শ্যামলীর সেই হেয়ালী কন্ঠস্বরটি নিলয়ের মনে এই ¯িœগ্ধ কমল বাতাসের মধ্যেও প্রলয় তুলে। কোথায় শ্যামলী তার কি মনে হয় তার সেই হেয়ালী আবেগী মনের কথাগুলো। না সে ভুলে গেছে সব। না সে যখন ভালোবাসত সেইক্ষনেও কি সে এই আবগী মনেই কথাগুলো বলেছিলো। দির্ঘ এক যুগেরও অধিককাল সময়ের ভালোলাগা ভালোবাসকি শুধুই কি আবেগ ছিলো তার? এই প্রশ্নগুলো গ্রীস্মকাল এলেই যখন বউ কথা কউ পাখি ডাকে বেশ ক্ষত বিক্ষত করে দিয়ে যায় নিলয়কে। সে কি ভূলে গেছে সব।

নারীরা নাকি সবি পারে। যাই হোক শ্যামলীও যেহেতু একজন নারী তারপক্ষে সবই সম্ভব। ৭টি বছর পেরিয়ে গেছে শ্যামলীর সাথে সেভাবে কথা হয়না নিলয়ের। তারপরেও তার স্মৃতি দূসহ দাবনলের মতো হৃদয়কে বিদ্ধ করে মনের মধ্যে রবি ঠাকুরের গানের ধ্বনি গুলো বার বার দোলা দেয় সেকি মোর লাগি পথ চাহে সেকি নিরবে গীত গাহে।

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s