৭ মে সদরের তিনটি ও টঙ্গীবাড়ীর ১২টি ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্টিত হবে

আগামী ৭ মে শনিবার মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে চতুর্থ ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিাত হবে। এই ইউনিয়ন গুলো হচ্ছে পঞ্চসার, রামপাল ও বজ্রযোগিনী। একই দিনে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে কয়েকটি ইউনিয়ন ইতোমধ্যে সংঘাতময় হয়ে উঠেছে। এই ইউনিয়নগুলো হচ্ছে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দীঘিরপাড়, কামাড়খাড়া, আউটশাহী, বেতকা, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ও রামপাল। এইসব ইউনিয়ন গুলোতে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষ হতে পারে। এখানে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে। টঙ্গীবাড়ী-সোনারং ইউনিয়নে আ’লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় বিজয়ী হয়েছেন।

সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নে প্রচারণায় এই মুহূর্তে এগিয়ে রয়েছেন আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: বাচ্চু শেখ, পঞ্চসার ইউনিয়নে আ’লীগের বিদ্রোহী আনারস প্রতীকের প্রার্থী গোলাম মোস্তফা ও বজ্রযোগিনী ইউনিয়নে বিএনপির ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থী তোতা মিয়া মুন্সি। রামপাল ও পঞ্চসার ইউনিয়নে নৌকা-আনারসের দ্বন্ধ চরম আকার ধারণ করেছে।

বজ্রযোগিনী ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান তোতা মিয়া মুন্সি দীর্ঘ ১৯ বছর যাবৎ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এবার নির্বাচিত হলে তিনি হবেন ৫ম বারের চেয়ারম্যান। বজ্রযোগিনী ইউনিয়নে ঘুরে দেখা যায় তার অবস্থান খুবই শক্ত। স্থানীয় লোকদের কাছে তিনি একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি। এখানে ধানের শীষের জোয়ার বইছে। শতভাগ সুষ্ঠ নির্বাচন হলে এখানে বিএনপির প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
আওয়ামী লীগের প্রচারণায় থাকলেও অবস্থান তৈরী করতে পারেননি এখনো। আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা মার্কার আমির হোসেন বেপারি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস মার্কার হাসান। এখানে ৯টি কেন্দ্র, ৩৯টি ভোট কক্ষে ভোট গ্রহণ হবে। মোট ভোটার ১৪ হাজার ৬শ’ ৭জন। মহিলা ভোটার ৬ হাজার ৮শ’ ৬৬জন ও পুরুষ ভোটার ৭ হাজার ৭শ’ ৪১জন।

রামপাল ইউনিয়নে আনারস প্রতীক নিয়ে মো: বাচ্চু শেখ সাধারণ ভোটারদের হৃদয় জয় করার চেষ্টা করছেন। দিনভর গণসংযোগ আর পথসভায় দিন কাটছে তার। বিশাল কর্মী বাহিনী, মাসেল ম্যান আর নিরন্তর প্রচেষ্টা দিন দিন তার পথকে মসৃণ করতে সহায়তা করছে। তাই আনারস প্রতীক জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা বেশী। সাধারণ ভোটারদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, আনারস প্রতীকের মো: বাচ্চু শেখ দু:খী দরিদ্র মানুষের সেবা করেন।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে আগামীতে আরও কাজ করার সুযোগ পাবেন। অন্যরা ভিআইপি হওয়ায় তাদের কাছে সাধারণ মানুষ যাওয়ার সুযোগ পাবে না। তাই সাধারণ মানুষের কাছে বাচ্চু শেখ খুবই জনপ্রিয় লোক। শতভাগ সুষ্ঠ নির্বাচন হলে এখানে আনারস প্রতীকের প্রার্থী মো: বাচ্চু শেখের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

তবে, প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় নৌকা মার্কার মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশাররফ হোসেন মোল্লা’র লোকজন বাচ্চু শেখকে চারিদিক দিয়ে হয়রানি করছে-তা সবার কাছে দৃষ্টিকটু হিসাবে ধরা পড়ছে। মাসেল পাওয়ার থাকা সত্ত্বেও বাচ্চু শেখ সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন বলেই সাধারণ ভোটারদের অভিমত।

তাছাড়া নৌকা প্রতীক নিয়ে মোশাররফ হোসেন মোল্লা ইতিমধ্যে ফারইষ্টের গাড়ি, টাকা ও কর্মচারীদের দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠায় কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন। জেলা এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নৌকা প্রতীককে জয়ী করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করলেও পালে হাওয়া পাচ্ছে না। তবে, ব্যক্তি ইমেজ ভালো সরকারের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বিজয়ী হওয়ার নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি।

অপরদিকে, রামপাল ইউনিয়ন পরিষদের দুই বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান শিল্পপতি মোশাররফ হোসেন পুস্তির ছোট ভাই মোহাম্মদ হোসেন পুস্তি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। রাতদিন মাঠ-ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন। রামপালে বিএনপি’র বিশাল ভোট ব্যাংক থাকায় সুষ্ঠু নির্বাচন হলে নৌকা-আনারসের মাঝখান দিয়ে ধানের শীষ জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাও আছে।
রামপাল ইউনিয়নে ১১টি ভোট কেন্দ্র ৬৭টি ভোট কক্ষে ভোট গ্রহণ হবে। মোট ভোটার ২৮ হাজার ৭শ’ ৪৫জন ও মহিলা ভোটার ১৩ হাজার ৬শ’ ৮৭জন ও পুরুষ ভোটার ১৫ হাজার ৫৮ জন।

আগামী ৭ মে সবার নজর থাকবে সদর উপজেলার মধ্যে পঞ্চসার ইউনিয়নের নির্বাচনের দিকে। এ ইউনিয়নের নির্বাচন ইতিমধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জেলার তিন হ্যাভিওয়েট নেতা তিন প্রার্থীর সরাসরি পক্ষ অবলম্বন করায় এমনটা হয়েছে।
তাছাড়া তিনজনেরই চ্যালেঞ্জ এখানে একাকার হয়ে উঠেছে। বিএনপি প্রার্থী রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান। তার পক্ষে কাজ করছেন এ ইউনিয়নের মানুষ জেলা বিএনপি’র সভাপতি, সাবেক উপমন্ত্রী ও পাঁচ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল হাই। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এই তিনটি বিএনপি’র ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত তিনটি ইউনিয়নেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরাই বিজয়ী হবে বলে দাবী বিএনপি নেতা কর্মীদের।

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুস ছাত্তারের পক্ষে জোর প্রচারণা করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয়ভাবে প্রভাবশালী নেতা অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাসের লোকজন ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম মোস্তফা আনারস প্রতীকে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগ।

স্থানীয় লোকজন মনে করেন, তিন হেভিওয়েট নেতা কারণে পঞ্চসার এখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়া নৌকা ও আনারসের দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এটা ঠিক তাদের এমন রেশারেশিতে ধানের শীষের আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান বিজয়ী হতে পারেন।
তাছাড়া বিএনপি’র দূর্গ হিসাবে জেলায় পঞ্চসারের একটা খ্যাতি আছে। পঞ্চসার ইউনিয়নে মোট ২০টি ভোট কেন্দ্র ১শ’ ২২টি ভোট কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে। মোট ভোটার সংখ্যা হচ্ছে-৫০ হাজার ১শ’ ৭৭জন। পুরুষ ভোটার-২৬ হাজার ৪শ’ ৪জন এবং মহিলা ভোটার -২৩ হাজার ৭শ’ ৭৩জন।

বিক্রমপুর সংবাদ

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s