হরগঙ্গা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষের ৩ কোটি টাকার সম্পত্তি দখল!

সিরাজদিখানে ৩ কোটি টাকার সরকারি খাস জমি জাল দলিলের মাধ্যমে ভোগ দখলের চেষ্টা চলছে। সিরাজদিখানের রাজদিয়া গ্রামের ৬ একর সরকারি সম্পত্তি বেশ কয়েকটি পরিবার ভোগদখল করে আসছে।

জানা যায়, তখন বিরেন্দ্র মোহন মুখপাধ্যায় সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। এসব সম্পত্তির মালিক তিনিই। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হওয়ার পর তারা ভারতে চলে যান। তিনি এসব সম্পত্তি কাউকে লেখে দিয়ে যাননি। ১৯৬৩ সালে তিনি ভারতে মারা যান। এসুযোগকে কাজে লাগিয়ে ৪ একর ৭০ শতাংশ জমি ১৯৭৫ সালে মৃত ইয়ানুস হাওলাদারের ছেলে মজিবুর রহমান হাওলাদার, মৃত হাবিবুল্লাহ চোকদারের ছেলে আ. কাদির চোকদার, মৃত ইসমাঈল হাওলাদারের ছেলে আওলাদ হোসেন ও মৃত মোহাম্মদ চোকদারের ছেলে আ. রব চোকদার অধ্যক্ষর সম্পত্তির জাল দলিল করে। কেউ কেউ আবার লিজ নিয়ে ভোগ দখল করছে। বর্তমানে কারো নামে কোন লিজ নেই এবং সরকার লিজ দিচ্ছে না। এরই মধ্যে উক্ত গোষ্ঠি জাল দলিলের মাধ্যমে নামজারি করে দখল করার চেষ্টা করছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। যার বর্তমান মূল্য ৩ কোটি টকা। এই গোষ্ঠিরা আশপাশে দখলে থাকা ব্যক্তিদের উঠিয়ে জায়গা দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি চলাচলের রাস্তাও কেটে ফেলছে। এব্যাপারে চেয়ারম্যানের কোর্টে মামলাও হয়েছে। দখলদার প্রভাবশালী হওয়ায় এবং স্থানীয় কিছু নেতা দখলদারের সাথে জড়িত থাকায় এলাকাবাসী ভীত সন্ত্রস্ত।

ভুক্তভোগী রাজদিয়া গ্রামের আব্দুর রহমান সিরাজী বলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূরমহল আশরাফি বদলী হওয়ার ৩-৪ দিন আগে হঠাৎ একদিন একতরফা পরিদর্শন করেন। আর মোটা অংকের বিনিময়ে নামজারিও করেন। তিনি আরও বলেন, আমরা যেন জমির দখল ছেড়ে দেই তাই আমাদের বিরুদ্ধে জমির ধান, পাট, কলা ও মাটি কাটার অভিযোগে ১৩-১৫ জন আসামী দিয়ে ৫ টি মামলা দেয়। অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার জন্যই এসব মামলা দেয়া হয়েছে। আর এই ৫টি মামলারই ১ নং আসামী করা হয়েছে আমাকে। আমার বাবা যেন জমি সংক্রান্ত দেওয়ানী মামলা (৬৬৪/১৪) তুলে নেয় সে জন্য প্রতিনিয়িত হুমকি দিচ্ছে। তিনি আরও জানান, আমাদের চলাচলের রাস্তা কেটে ফেলেছে। মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি জাল দলিল করে এলাকার মানুষের উপর ভয়বহ নির্যাতন চালাচ্ছে।

রাজদিয়া গ্রামের ইয়ানুস হাওলাদারের ছেলে মজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, সে যখন হরগঙ্গা কলেজে চাকরি করে তখনই আমরা দলিল করি।

ইছাপুরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন হাওলাদার বলেন, রাস্তা কাটার বিষয়ে বিরুধী পক্ষ আমাকে বলছিল আমি যাইনি। তবে তাদের নিজস্ব জায়গাই কাটছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বেগম শাহিনা পারভীন জানান, আমাদের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্রাইম ভিশন

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s