দলীয় নেতাকর্মীরা বিরুদ্ধে থাকায় নৌকার পরাজয়

কাজী সাবি্বর আহমেদ দীপু: পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে তিনটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের পরাজয়ের নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতার দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ দলীয় প্রতীকের বিরুদ্ধে নির্বাচন করায় শুধু পরাজয়ই নয়, মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ভোট গ্রহণ শুরুর দুই ঘণ্টা পর নির্বাচন বর্জন করতে বাধ্য হন। এ নিয়ে উপজেলাজুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রিপন হোসেন পাটোয়ারী নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন পাওয়ার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সদর উপজেলা মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মহসিনা হক কল্পনাকে বিদ্রোহী প্রার্থী করেন। এর মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহ আলম মলি্লক, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ খান, সহসভাপতি হেলালউদ্দিন ছৈয়াল, সাধারণ সম্পাদক আজাহার উদ্দিন মোল্লাসহ অধিকাংশ নেতাকর্মী নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মহসিনা হক কল্পনার পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। এমনকি এসব নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী মহসিনা হক কল্পনাকে আর্থিক সহযোগিতাও করেন।

তারা আরও জানান, এর ফলে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রিপন হোসেন পাটোয়ারী একা হয়ে যান। তার পক্ষে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. মোস্তফা মোল্লা থাকলেও নির্বাচনী প্রচারের কাজে তিনি নীরব ভূমিকা পালন করেন। সেই সঙ্গে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে নেপথ্যে প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এক জনপ্রতিনিধি। ফলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা নৌকা প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের গ্রাম থেকে বিতাড়িত করে ইউনিয়নের বেশির ভাগ কেন্দ্র নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। মূলত এসব কারণেই মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের পরাজয় ও প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করতে বাধ্য হয়েছেন।

অন্যদিকে, আধারা ইউনিয়নে জেলা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামছুল কবিরকে মনোনীত করেন। পরে আধারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহরাব হোসেন কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ফলে জেলা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড থেকে নৌকা প্রতীক পাওয়া সামছুল কবির আনারস প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন। দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় এ ইউনিয়নেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন।

অন্যদিকে, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামছুল কবিরের আনারস প্রতীকের পক্ষে ছিলেন আওয়ামী লীগের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকর্মী। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সুরুজ মিয়া জানান, তিন ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া বাকি ছয়টি ওয়ার্ডের সব সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিদ্রোহী প্রার্থী সামছুল কবিরের পক্ষে নির্বাচন করেছেন। নেতাকর্মীরা জানান, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় আধারা ইউনিয়নেও নৌকা প্রতীকের পরাজয় হয়।

অপরদিকে, মহাকালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. শহীদুল ইসলাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হলেও এলাকায় তেমন অবস্থান নেই। সেই সঙ্গে রয়েছে কোন্দল। এ ছাড়া মহাকালী ইউনিয়ন বরাবরই বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ ইউনিয়নে বিএনপির ভোটব্যাংক ও আওয়ামী লীগের একটি অংশের ভোট আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম বিরাজ। এ কারণে এ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অনেক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।

সমকাল

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s