বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল মহাসড়কের ব্যয় বাড়ছে আরো ৫০০ কোটি

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল মহাসড়কের আরও ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি অনুমোদন হয় গত মাসে। সে সময় সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ মহাসড়কের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৬ হাজার ২৫২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এতে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় দাঁড়ায় ১১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। অনুমোদনের এক মাসের মধ্যেই আরো ৫০০ কোটি টাকা বাড়ানো হচ্ছে প্রকল্পের ব্যয়। এতে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করতে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় পড়বে ১২২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

জমি অধিগ্রহণে খরচ বৃদ্ধির যুক্তিতে বাড়ানো হচ্ছে এ ব্যয়। প্রকল্পটির আওতায় দুই প্যাকেজে ঢাকার বাবুবাজার লিংক রোড থেকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও মাদারীপুরের পাচ্চর হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার চার লেন করা হবে। এজন্য জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন পড়বে ২৪ দশমিক ৮৮ হেক্টর। এর মধ্যে ঢাকা জেলায় রয়েছে ১৯ দশমিক ৩৭ ও মুন্সীগঞ্জে ৫ দশমিক ৫১ হেক্টর। প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে যথাক্রমে ১০০ ও ৫০ কোটি টাকা।

ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জ জেলায় জমির প্রকৃত মূল্য অনেক বেশি বলে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় জানানো হয়। জমির প্রকৃত মূল্য বিবেচনায় তা সংশোধনের সিদ্ধান্ত হয় সভায়।

একনেকের কার্যবিবরণীতে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ২৪ দশমিক ৮৮ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের ব্যয় প্রাক্কলন করতে হবে। এর ভিত্তিতে পুনর্গঠন করতে হবে ডিপিপি। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০১৫ সালে জমির দাম বেড়ে গেছে। এক্ষেত্রে মৌজা অনুযায়ী ঢাকা জেলায় ১৯ দশমিক ৩৭ হেক্টর জমির দাম পড়বে ৪৩৫ কোটি টাকা। আর মুন্সীগঞ্জের ৫ দশমিক ৫১ হেক্টর জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হবে ২১৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ জমি অধিগ্রহণে মোট ব্যয় হবে ৬৫০ কোটি টাকা। ফলে এ খাতে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়বে।

জানতে চাইলে সওজের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান বলেন, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিটি জেলার মৌজা অনুযায়ী সরকার ঘোষিত জমির ন্যূনতম মূল্য ধরা হয়। এক্ষেত্রেও তা করা হয়েছিল। তবে ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জে জমির দাম অনেক বেশি। এজন্য ব্যয় বাড়াতে হচ্ছে। তবে ব্যয় কতটা বাড়বে, তা জমি অধিগ্রহণের পর জানা যাবে।

উল্লেখ্য, ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা চার লেন নির্মাণে গত বছর অক্টোবরে ব্যয় ধরা হয় ৫ হাজার ২৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। তবে প্রকল্পটির বিভিন্ন খাতের ব্যয় অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। ১২টি খাতের বিভিন্ন ব্যয় নিয়ে আপত্তির পরও তা না কমে উল্টো ৯৩২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বেড়ে যায়। এতে প্রকল্পটির ব্যয় দাঁড়ায় ৫ হাজার ৯৬২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। গত মার্চে প্রকল্পটির মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) বৈঠক হয়। এতেও প্রকল্পটির অত্যধিক ব্যয়ের বিষয়ে আপত্তি ওঠে। তার পরও ব্যয় উল্টো ২৮৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বাড়ানো হয়।

এতে একনেকে অনুমোদনকালে ব্যয় দাঁড়ায় ৬ হাজার ২৫২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৬ হাজার ৭৫২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে চার লেন নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় পড়বে ১২২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, যা দেশে চলমান ও প্রস্তাবিত অন্যান্য প্রকল্পের চেয়ে বেশি। এমনকি বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এ ব্যয় অনেক বেশি। গত জানুয়ারিতে চলমান ও নতুন বিভিন্ন চার লেন প্রকল্পের কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় জানতে চায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

এজন্য সংসদীয় কমিটিতে জমা দেয়া সওজের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রস্তাবিত এলেঙ্গা-রংপুর চার লেন প্রকল্পে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। আর সম্প্রতি শুরু হওয়া জয়দেবপুর থেকে টাঙ্গাইল হয়ে এলেঙ্গা চার লেনে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় হচ্ছে ৪৮ কোটি ৬ লাখ টাকা। এছাড়া শেষ হতে চলা ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেনে কিলোমিটারপ্রতি গড় ব্যয় ১৯ কোটি ৮৫ লাখ ও ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন প্রকল্পে ২০ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

এতে আরো বলা হয়, ইউরোপে চার লেনের নতুন মহাসড়ক নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় পড়ছে ২৮ কোটি টাকা। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এ ব্যয় ১০ কোটি টাকা। আর চীনে তা গড়ে ১৩ কোটি টাকা।

ডেসটিনি

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s