মা-মেয়ে অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছ॥ পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক

মুন্সীগঞ্জে একজন পৌর কাউন্সিলরের নির্যাতনে মা ও তার মেয়ে কলেজ ছাত্রী হাসপাতালে অসহ্য যন্ত্রনায় কাতারাচ্ছে। নির্বাচনে কাউন্সিলরে পক্ষে কাজ না করায় ও জায়গাজমি সংক্রান্ত্র পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মা ও মেয়ের প্রতি আক্রমন করে তাদের করে আহত করে ওই কাউন্সিলর। এমন কি ওই কাউন্সিলরের হুমকি-ধমকিতে পরিবারটি এখন বাড়িতে বাড়িঘর-ছাড়া। মেয়ে সরকারি হরঙ্গা কলেজের বাংলা বিভাগের চুতুর্থ বর্ষের ছাত্রী রাজিয়া সুলতানার লেখাপড়াও বিঘিœত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। মা ৬০ বছরের বৃদ্ধ আমেনা বেগমের আকুতিতে চোখের জল ধরে রাখা কষ্ট হবে।

মুন্সীগঞ্জের হাটলক্ষিগঞ্জের মো. মধু মিঝির মেয়ে আছমা বেগম (৩৬) জানান, গত ১৫ জুন বিকেলে তার মা মুন্সীগঞ্জ আদালতে একটি মামলার হাজিরা দিয়ে বাড়িতে ফেরা মাত্রই আক্রমন। মুন্সীগঞ্জ পৌর সভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মকবুল হোসেন লোকজন নিয়ে এই আক্রমন চালায়। অমানবিকভাবে বুৃদ্ধাকে মারধর করতে থাকে। আহত মায়ের চিৎকার শুনে ঘর থেকে ছোট মেয়ে রাজিয়া সুলতানা বের হতেই তাকেও মারধর। এমন বর্বরতা যে কাউকেই বিস্মিত করবে।

অমানবিক এ অবস্থা দেখে প্রতিবেশীরা থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে তাদেরকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। গত ৫ দিনে মায়ের অবস্থা কিছুটা উন্নতি হলেও রাজিয়া সুলতারা এখনও উঠে দাড়াতে পারছেনা। তাছাড়া মকবুল কাউন্সিলরের হুমকি ধমকিতে ওই পরিবারটি এখন বাড়িও ফিরতে পারছেননা। আর নির্বাচনের পর থেকেই রাজিয়া সুলতানার বাবা মধু মিঝি বাড়ি ছাড়া। গত পৌর নির্বাচনে মধু মিঝি মকবুল কমিশনারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মেয়র পদে নৌকা প্রতীকের ফয়সাল বিপ্লবের সমর্থন করেছিল। এ ব্যাপারে মকবুল কাউন্সিলরের সাথে দফায় দফায় ফোনে যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে আছমা বেগম বলেন, মা ও বোনের এই করুন অবস্থা জানানোর পরও ওসি মামলা নিচ্ছে না। তবে সদর থানার ওসি ইউনুচ আলী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “পুলিশ আহতাবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। এই আগে গত বছর ২ জুন জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মকবুল কাউন্সিলর-এর সাথে মধু মিঝির পরিবারের দন্দ্ব হয়। এ নিয়ে ওই সময়ে থানায় একটি মামলাও হয়। গত ১৫ জুন ওই মালার স্বাক্ষী দিয়ে বাড়ির ফেরার পরই মকবুলের সাথে তাদের ঝগড়া বাধে। তবে মকবুল কমিশনার খরাপ লোক এটা সত্য। এখনও থানায় কোন অভিযোগ আসেনি।”

জনকন্ঠ

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s