ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে হারবাল চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান

এম.এম.রহমান: মুন্সীগঞ্জের আনাচে- কানাচে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন হারবাল চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান।এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর চিকিৎসা ব্যবসার কোন বৈধ লাইসেন্স বা অনুমোদন নেই। এসব প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্সের উপর নির্ভর করে চলছে। তাছাড়া হেমিকদের কোন ফার্মাসিস্টের উপর কোন ডিপ্লোমা বা অন্য কোন প্রশিক্ষন নেই। হারবাল প্রতিষ্ঠানগুলো বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে চিকিৎসার নামে সাধারন মানুষের সাথে প্রতারনা করছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধান করে দেখাযায়, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের দয়াল বাজারে কলিকাতা হারবাল মেডিকেল, একই মালিকের হাতিমারা চৌরাস্তায় আরো একটি কলিকাতা হারবাল মেডিকেল তাছাড়া রয়েছে মর্ডান হারবাল, সিপাহী পাড়ায় চায়না হারবাল, ইন্ডিয়ান হারবাল, ভারত হারবাল এবং জেলার উপজেলাগুলোর বিভিন্ন স্থানে রয়েছে জার্মান হারবাল,এশিয়া হারবাল, বেঙ্গল হারবাল,হারবাল কেয়ারসহ নামে বেনামে প্রায় অর্ধ শতাধিক হারবাল চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।এসব প্রতিষ্ঠানে প্যারালাইসিস, চর্ম, যৌন, ডায়বেটিস,টিউমার, হাঁপানিসহ জটিল ও পুরাাতন রোগের শতভাগ গ্যারান্টিসহ চিকিৎসা দেয়া হয়। রয়েছে বিফলে মূল্য ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও।এসব প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কোন ডাক্তার পাওয়া যায়নি।

সেখানে কর্মচারীরা রোগীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন। প্রচারনার শিকার রোগী আলমগীর জানান,এসব প্রতিষ্ঠানে রোগী গেলে তাদেরকে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নেয়া হয় মোটা অংকের টাকা। কোন হেকিম না থাকলেও রোগীর কাছ থেকে পরামর্শ ফি বাবদ ১০০-৫০০ টাকা হাতিয়ে নেয় কর্মচারীরা। আমি চর্ম রোগের জন্য গিয়ে প্রতারিত হয়েছি। এক মাসের গ্যারান্টিতে ভগ্ন স্বাস্থ্যকে সুস্থ্য ও সবল করা হবে। এভাবেই এসব প্রতিষ্টানের বিজ্ঞাপন চলছে। শহর গ্রামের অলিতে গলিতে হ্যান্ডবিল, বিলবোর্ড ও পোষ্টারিংয়ে ছেয়ে গেছে।

রাস্তার পাশের বৈদ্যুতিক পিলার, বাসাবাড়ীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেয়ালেও ছেঁয়ে গেছে পোষ্টারে।আর এ ধরনের বিজ্ঞাপনে অশালীন ভাষায় বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে রোগীদের দৃষ্টি আকর্শনের চেষ্টা চলছে। তাছাড়া চলন্ত পথে ও রাস্তায় লিফলেটও বিলি করা হচ্ছে। দেশের প্রচলিত আইনানুযায়ী ওষুধের যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার নিষিদ্ধ থাকলেও রাস্তার ধারে, বাসে এসব প্রতিষ্ঠানের অশালীন মন ভূলানো বিজ্ঞাপনের প্রচারনা চালাচ্ছে হারবাল প্রতিষ্ঠানগুলো।এক শ্রেণীর মানুষ হারবাল চিকিৎসার নামে জমজমাট ব্যবসার ফাঁদ পেতে বসেছেন। যৌন রোগ সারানোর নামে হারবাল চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে নিজস্ব ফর্মুলায় ঝোঁকের তৈল, বড়ি ও নানা রকম মালিশ ইত্যাদি বানিয়ে ইউনানী,আয়ুর্বেদিক ও হারবাল ওষুধ বলে চালিয়ে দিচ্ছে।

সাধারন ও নিম্ন আয়ের মানুষকে টার্গেট করে কথিত হারবাল প্রতিষ্ঠান এ চিকিৎসা বানিজ্য চলছে।জেলা সদর হাসপাতালে সরকার ইউনানী ডাক্তার নিয়োগ দিয়েছেন।অথচ হারবাল প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও লিফলেটের ভাষায় আকৃষ্ট হয়ে এসব ভূয়া নামধারী চিকিৎসা কেন্দ্রে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের একাধিক হেকিমের সাথে একান্ত আলাপকালে তারা বলেন, আমরা পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে চালাচ্ছি। আর প্রতিষ্ঠানের নামটি আমাদেরই দেয়া নাম। প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ভারত হারবাল, কলিকাতা হারবাল, জার্মান হারবাল, ইন্ডিয়ান হারবাল এসব নাম ব্যবহার করলে রোগী বেশী পাওয়া যায়।

তাই আমরা নামগুলো ব্যবহার করে খাকি। কলিকাতা হারবাল মেডিকেলের হেকিম খলিলুর রহমান বলেন, এটা কলিকাতার হারবাল নাম দিয়েছি রোগীদের আকৃষ্ট করার জন্য আসলে কলিকাতার কোন ঔষধ এখানে নেই। আমি মর্ডান হারবাল, নেপচুন ও হামদর্দের ওষুধ বিক্রি করি।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একেএম শওকত আলম মজুমদার বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা ও অবস্থান চিহ্নিত করে এ সাপ্তাহের মধ্যে হারবাল প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

সিভিল সার্জন ডাঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, যদি কারো নামের পূর্বে ডাক্তার লাগিয়ে রোগীদের চিকিৎসা ও ব্যাপস্থাপত্র দিয়ে থাকে বা বিভিন্ন নামে হারবাল প্রতিষ্ঠান করে রোগীদের সাথে প্রতারনা করে এমন কোন অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চমক নিউজ

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s