১৪ বছর ধরে বন্দী শীর্ষ সন্ত্রাসীর ঘরে চার বছরের সন্তান!

কারাগারে ১৪ বছর ধরে বন্দী শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান ওরফে পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশ। বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে ১৪ বছর কারাবন্দী হওয়া সত্ত্বেও ইয়াসিন খানের চার বছর বয়সী একটি সন্তান আছে।

যুবদল নেতা মিজানুর রহমান মিজান হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন ইয়াসিন খান। ২০০২ সালের ২৯ মে রামপুরায় যুবদল নেতা মিজানকে গুলি করে হত্যার মামলায় বিচারিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। উচ্চ আদালত তার সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

কাশিমপুর, মুন্সিগঞ্জ, রাজশাহী, দিনাজপুর কারাগার ঘুরে ইয়াসিন খান এখন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।

ইয়াসিন খানের স্ত্রী মাহমুদা খানম বলেন, খুনের মামলায় ২০০৩ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে জেলে আছেন তার স্বামী। ২০১২ সালের অক্টোবরে মুন্সিগঞ্জ হাসপাতালে জন্ম হয় তাদের মেয়ে খাদিজার। মাহমুদা স্বীকার করেন, কারাগার থেকে আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে রামপুরার বাসায় দেখা করে যেতেন ইয়াসিন খান। আগে মাসে দু-তিনটা হাজিরা থাকত, তখন বেশি আসতেন—এখন কম। কখনো কয়েক ঘণ্টা, কখনো সারা দিন পরিবারের সঙ্গে থাকেন। প্রিজন ভ্যানে নয়, মাইক্রোবাসে করেই ইয়াসিন খান আসা-যাওয়া করতেন। বাড়ির বাইরে পুলিশ পাহারা দিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী বলেন, ইয়াসিন খান কারাগারে থেকেও নিয়মিত বাসায় আসা-যাওয়া করেন। এসব নিয়ে এলাকায় প্রশাসনের খুব সমালোচনা হয়। এর মধ্যে তিনি সন্তানেরও বাবা হয়েছেন। এলাকাবাসী আরো বলেন, ইয়াসিন খানের নামে এখনো এলাকায় চাঁদাবাজি হয়। আগে তার ভাগনে করতেন। এখন তিনি জেলে। এখন তার অন্য সহযোগীরা করেন।

কারা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ইয়াসিন খান গত দুই বছরে মামলার হাজিরা দিতে ৫৩ বার ঢাকায় এসেছেন। কাশিমপুর থেকে ঢাকার বিভিন্ন আদালতে হাজিরা দেওয়ার সময় পুলিশি পাহারায় প্রিজন ভ্যানে যাতায়াত করেছেন তিনি।

স্ত্রী মাহমুদা বলেছেন, পুলিশের সহযোগিতায় তার স্বামী রামপুরার বাসায় আসা-যাওয়া করতেন মাইক্রোবাসে। প্রিজন ভ্যানে কখনো আসেননি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘এ তো ভয়ংকর ঘটনা! একজন আসামি কারাগারে থাকা অবস্থায় তার সন্তান হয়েছে! এর আগে বিয়ের ঘটনা শুনেছিলাম আরেকজনের।’

তিনি বলেন, ইয়াসিন ওরফে পলাশ কোন কারাগার থেকে কতবার হাজিরা দিয়েছেন, তা অনুসন্ধান করে ওই কাজে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য তিনি একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে।

সময়ের কণ্ঠস্বর

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s