টোকিও মেট্রোপলিটন গভর্নর নির্বাচনের প্রচারণা শুরু

রাহমান মনি: রাজনৈতিক তহবিলের অর্থ ব্যক্তিগত খাতে ব্যবহারের অভিযোগ কাঁধে নিয়ে টোকিও মেট্রোপলিটন গভর্নর ইয়োইচি মাসুযোত্র পদত্যাগ করার পর টোকিওবাসীকে আবার নতুন করে নির্বাচন করে নিতে হবে তাদের অভিভাবককে। আগামী ৩১ জুলাইয়ের নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবেন কে হবেন মেগাসিটি টোকিওর অভিভাবক, পরবর্তী ৪ বছরের জন্য।

জনগণের প্রত্যেক ভোটে গভর্নর নির্বাচন পদ্ধতি শুরু হওয়ার পর ২০তম নির্বাচনে (৩১ জুলাই ২০১৬) মোট ২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তিন জনের মধ্যে। বলে রাখা ভালো, টোকিও মেট্রোপলিটন গভর্নর নির্বাচন সম্পূর্ণ দলীয় মনোনয়ন এবং সরকারি প্রভাবমুক্ত।

প্রধান তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউরিকো কোইকে (৬৪), প্রাক্তন অভ্যন্তরীণ সেবা ও যোগাযোগমন্ত্রী হিরোইয়া মাসুদা (৬৪) এবং বয়োজ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও প্রাক্তন টিভি সংবাদ উপস্থাপক শুনতারো তোরেগোয়ে (৭৬)। এদের মধ্যে কোহকো এবং মাসুদা আবার ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী সদস্য। ক্ষমতাসীন জোট থেকে কোইকেকে নির্বাচন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল এবং মাসুদাকে সমর্থন জানানোর জন্য বলা হলেও কোইকের দৃঢ়তার কারণে তা ভেস্তে যায়। কোইকে নিজেকে একজন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজের অবস্থান জানান দেন। অপরদিকে তোরিগোয়ের প্রতি সম্মিলিত বিরোধী দলের সমর্থন ছাড়াও একজন বয়োজ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং টিভি সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে তার রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা বিশেষ করে বয়স্ক জেলারেশনের মধ্যে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। আর জাপানে বয়স্ক ভোটারের সংখ্যাও যেমন বেশি, তেমনি ভোট প্রদানে তাদের আগ্রহও বেশি। তোরিগোয়ের জন্য যা প্লাসপয়েন্ট।

২৩টি বিশেষ ওয়ার্ড, ২৬টি সিটি, ১টি জেলা এবং ৪টি সাব প্রিফেকচার নিয়ে গঠিত এবং প্রায় ৬,০৮৮.৬৬ বর্গমাইল আয়তন বিশিষ্ট জাপানের সুলভ খণ্ড (হানশু)’র কানতো এলাকার টোকিও তে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ মিলিয়নেরও কিছু বেশি। আর এই বিশাল কর্মযজ্ঞে প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বীকে চষে বেড়াতে হবে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত। যা শুরু হয়েছে ১৪ জুলাই থেকে চলবে ৩০ জুলাই পর্যন্ত।

নির্বাচনে যিনিই জয়ী হবেন তার সামনে থাকবে পর্বতসম এক চ্যালেঞ্জ। আসন্ন ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিক এবং প্যারা অলিম্পিককে সাফল্যের সঙ্গে পরিসমাপ্তি করা যেমন নিজেকে মেলে ধরার বড় সুযোগ, তেমনি ব্যর্থতার দায়ভারও তাকেই নিতে হবে। তার আগে রয়েছে ২০১৯ সালে টোকিওতে বিশ্বকাপ রাগবী টুর্নামেন্টের মতো বড় আয়োজন। এসবই তাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে সাফল্য পরীক্ষার তরী পাড়ি দিতে হবে।

প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউরিকো কোইকে তারও পরিবেশমন্ত্রী থাকাকালীন জাপান প্রবাসীদের বৃহত্তম আয়োজন টোকিও বৈশাখী মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং একাধিক সাফল্য কামনা করে ম্যাসেজ পাঠিয়েছেন। তাই তার প্রতি বাংলাদেশিদের নীরব সমর্থনও রয়েছে। যদিও জাপানিজ পাসপোর্টধারী ছাড়া কারও ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষমতা নেই।

১৮৬৮ সালে টোকিও প্রিফেকচার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবার পর থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত প্রশাসক হিসেবে প্রিফেকচার থেকে নিয়োগ দেয়া হতো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পূর্ব ১৯৪৩ সালের ১ আগস্ট টোকিও মেট্রোপলিটন সিটি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবার পর টোকিও মেট্রোপলিটন থেকে প্রথমবারের মতো এর প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে থাকে। তারপর বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর ১৯৪৭ থেকে নিয়মিতভাবে অদ্যাবধি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নগরপিতা নির্বাচিত হয়ে আসছেন।

rahmanmoni@gmail.com
সাপ্তাহিক

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s