জঙ্গীবিরোধী ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন

মুন্সীগঞ্জে জঙ্গীবিরোধী ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন হয়েছে। এতে মুক্তিযোদ্ধা, কৃষক, শ্রমিক, মজুর, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী, পুলিশ, সরকারী কর্মচারীসহ সর্বস্তরের নারী-পুরুষ অংশ নেয়। স্মরণকালের র্দীঘ স্বঃতস্ফূর্ত মানববন্ধটিতে নানাভাবে জঙ্গীবাদকে ধিক্কার জানানো হয়েছে। রবিবার বিকালে টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বালিগাঁও থেকে লৌহজং উপজেলার খিদিরপাড়া, গাঁওদিয়া, বৌলতরী, বেজগাঁও, লৌহজং-তেউটিয়া, কনকসার, হলদিয়া, কুমারভোগ ও মেদিনী মিন্ডল ইউনিয়ন হয়ে নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর পাশ দিয়ে শ্রীনগর উপজেলার দোগাছি গিয়ে শেষ হয়।

এতে নেতৃত্ব দেন মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি। এই মানববন্ধণ ঘিরে বিশেষ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আশপাশের বাড়িঘর থেকে নারী-পুরুষ এই মানববন্ধনে ছুটে আসে। স্বঃতস্ফূতভাবে যোগ দেয়। লৌহজং উপজেলার খেতেরপাড়ার গৃহিনী আসমা আক্তার বলেন, “আমরা শান্তিতেই ছিলাম। এই শান্তিকে যারা নষ্ট করতাছে তাগো আমরা ঘৃনা করি। তাই মানববন্ধণে ছুইট্টা আছি।” লৌহজং উপজেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশীদ শিকদার জানান, সংসদ সদস্যের ইচ্ছায় এটি আয়োজন করে লৌহজং উপজেলা আওয়ামী লীগ।

কিন্তু মানববন্ধণটি এত বড় হবে এটি ধারনা করা যায়নি। তিনি বলেন, সর্বস্তরের মানুষের সাথে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্র লীগ, কৃষক লীগসহ এবং জনপ্রতিনিধিরাও অংশ নেয়। লৌহজং উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি জুলহাস ব্যাপারী বলেন, “ সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে জীবনে এত বড় মানববন্ধণ দেখি নাই।” টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বালিগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল হাজী বলেন, “ধর্ম-বর্ষ নির্বিশেষে সব ধরণের মানুষ অংশ নিয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ধোপা-নাপিত, কৃষক-শ্রমিক, সাংবাদিক, ধনী-গরিব সাবাইকেই দেখাগেছে এই মানববন্ধণে। বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন কমান্ডার বলেন, “মানুষ যে শান্তি চায়, জঙ্গীদের আর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের অপছন্দ করে, এই বিশাল মানববন্ধণ তারই প্রমান।

লৌহজং থানার ওসি আনিছুর রহমান বলেন, “বালিগাঁও থেকে ছনবাড়ি এই পুরো ২০ কিলোমিটার মানুষ আর মানুষ। সবাই হাতে হাত ধরে জঙ্গীবাদকে ধিক্কার জানালো। তাই আমরাই সাথে হাত ধরে দাড়ালাম।” অনেকে যানবাহন থেকে নেমেও এই স্মরণীয় মানববন্ধনে অংশ নেয়। বালিগাঁও কলেজের ছাত্র মনির হোসেন বলেন, “ কলেজ ছুটির পর সহপাঠিদের নিয়ে দাঁড়িয়ে যাই এই মানববন্ধনে। কেন যেন মনে হয়েছে সময়ের প্রয়োজনেই জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া প্রয়োজন।

এই মানববন্ধনে সাধারণ মানুষের সাথে অংশ নেন স্থানীয় সাংসদ অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি। পরে তিনি পুরো ২০ কিলোমিটার এলাকা পদক্ষিণ করেন এবং অংশ গ্রহনকারীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। ধর্মের নামে যারা মানুষ হত্যা আর বিশঙ্খলা করছে-তাদের ধিক্কার জানাতেই সভ্যতার জনপদ মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুরের মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।

জনকন্ঠ

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s