হরগঙ্গা কলেজের পরিত্যক্ত ছাত্রাবাস ভেঙে জীবনহানির আশঙ্কা

মোজাম্মেল হোসেন সজল: ৮ বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এখন পর্যন্ত ভেঙে অপসারন করা হয়নি মুন্সীগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজের ঝুকিপূর্ণ পুরনো ছাত্রাবাসটি।

প্রশাসনিক স্থবিরতায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে অনুমতি না আসায় ছাত্রাবাসটি অপসারনের কাজ শুরু করতে পারেনি কলেজ প্রশাসন।

অন্যদিকে, ছাত্রদের অন্য ছাত্রাবাসটির অবস্থা শোচনীয়। ছাত্রাবাস সঙ্কটের কারণে অন্য জেলার ছাত্রদের থাকতে হচ্ছে বাসা ভাড়া করে মেসে। এতে শিক্ষার্থীদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি খরচ। শিক্ষার্থীরা নানামুখি সমস্যা কথা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, বাবা হারাধন গাঙ্গুলি ও মা গঙ্গামনির নামের সাথে মিল রেখে শিক্ষানুরাগী আশুতোষ গাঙ্গুলি ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন সরকারি হরগঙ্গা কলেজ। কলেজ প্রতিষ্ঠার পর স্থানীয় ছাত্রছাত্রী ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলো থেকে ছাত্র-ছাত্রি ভর্তি হতে থাকে। তাই দূর-দূরান্ত থেকে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য কলেজ প্রাঙ্গণে ১৯৪০ সালে একটি তিন তলা ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হয়।

দীর্ঘ সময়ের ব্যবহার এবং সংস্কারের উদ্যোগ না থাকার ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ছাত্রাবাসটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় এ পর্যন্ত বহুবার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে কোন জবাব পাওয়া যায়নি।

এদিকে, পরিত্যক্ত ভবনটি রাস্তার সাথে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কলেজটির অধ্যক্ষ।

এদিকে, ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া শহীদ জিয়াউর রহমান ছাত্রাবাসটির অবস্থা শোচনীয়। ১০০ আসনের এ ছাত্রাবাসের সেতসেতে দেয়াল, দরজা-জানালা-বেসিন ভাঙা। নোংরা টয়লেটসহ নানা দুর্ভোগের মধ্যে কাটাতে হচ্ছে ছাত্রাবাসের জীবন।

ছাত্রাবাসটিতে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, শরিয়তপুর, মাদারিপুর, ফরিদপুর কুমিল্লাসহ অন্যান্য জেলা থেকে আসা ছাত্রদের বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে স্থানীয় বিভিন্ন মেস বা বাসাবাড়িতে। ছাত্রদের দাবি ছাত্রাবাস সঙ্কট দূর করার জন্য খুব তাড়াতাড়ি পুরাতন ছাত্রাবাসটি ভেঙে নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণের।

শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা দ্রুত পরিত্যক্ত এ ভবনটি অপসারনের দাবি জানান। তারা বলেন, এ ছাত্রাবাসটির পাশ দিয়ে ব্যস্ততম একটি সড়ক রয়েছে। যে কোনো সময় ভবনটি ধসে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর হরগঙ্গা কলেজে পুরাতন পরিত্যক্ত ছাত্রাবাসটি অপসারণ প্রয়োজন উল্লেখ করে স্থানীয় সুধীসমাজসহ সাধারাণ মানুষ অচিরে এর সমাধান চায়। এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন কামনা করেন।

মুন্সীগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মাহফুজুল হক জানান, পুরাতন ছাত্রাবাসটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর থেকে পার্শ্ববর্তী জেলা গুলো থেকে পড়তে আসা অনান্য শিক্ষর্থীরা পড়েছে আবাসন সঙ্কটে। ছাত্রাবাসটি ভেঙে ফেলার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে ২০১৪ সালে। কিন্তু সে চিঠির জবাব পাওয়া যায়নি। দ্রুত ছাত্রাবাস ভেঙে ফেলা দরকার বলে তিনি জানান।

পূর্ব পশ্চিম

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s