একমাসে ৫১ দন্ডপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার

মুন্সীগঞ্জে সেপ্টেম্বর মাসে সাজাপ্রাপ্ত ৫১টি ওয়ারেন্ট তামিল হয়েছে। এক মাসে এত সাজা প্রাপ্ত আসামী গ্রেফতারের ঘটনা নজিরবিহীন। সস্মিলিত প্রচেষ্টায় এই অসম্ভব সম্ভব হয়েছে রবিবার জেলা আইন শৃঙ্খলা কামিটির সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম এই তথ্য দিয়ে বলেছেন, একই মাসে জিআর পেন্ডিং ওয়ারেন্ট নথিভূক্ত করা হয়েছে ৩ হাজার ৮শ’ ৮৮টি। এই পেন্ডিং সবগুলো ওয়ারেন্টই তামিল হয়ে গেছে। তিনি জানান, এখানকার পুলিশ কৌলশগত কারণে পেন্ডিং ওয়ারেন্ট যথাযথভাবে না দেখিয়ে শুভঙ্করের ফাঁকি দেয়া হচ্ছিল। এখন সবগুলো পেন্ডিং ওয়ারেন্ট আপডেট করা হয়েছে। এতে পুলিশের কাজের গতি এসছে এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হয়েছে। পুলিশ সুপার বলেন, তথ্যউপাত্ত সঠিক থাকলেও আর সততা থাকলে অনেক সমস্যাই সমাধান সম্ভব। তিনি জানান, এছাড়া সেপ্টেম্বরে সিআর মামলা নিস্পিত্তি হয়েছে ৫৮৭ টি। এই সেপ্টেম্বর মাসে মুন্সীগঞ্জের ছয় থানায় মামলা হয়েছে ১৬৪টি।

এর মধ্যে মাদক উদ্ধার মামলাই ১০২টি। এছাড়া দু’টি অস্ত্র উদ্ধার এবং একটি চোরাচালানের মালামাল উদ্ধার মামলা রয়েছে। গত বছরের এই মাসে মামলা ছিল ১৭৪টি। তুলনামূলক এই চিত্রে এবং বাস্তবতার ভিত্তিতে জেলার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে এই সভায় জেলা নানা পরিস্থিতি তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ সুকুমার রঞ্জন ঘোষ ও মুন্সীগঞ্জ-ও আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট মৃনাল কান্তি দাস। জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানার সভাপতিত্বে আরও আলোচনা করেন সিভিল সার্জন ডা. শহিদুল ইসলাম, এডিএম একেএম শওকত আলম মজুমদার, জেলা আওয়ামী লীগৈর সাধারণ সম্পাদক শেখ লুৎফর রহমান, সিরাজদিখান উপজেলা চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহম্মেদ, মিরকাদিম পৌর মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহিন, গজারিয়া ইউএনও মাহবুবা বিলকিস, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শামসুজ্জামান বাবু, সহকারী পুলিশ সুপার কায়স রিজভী কোরায়শী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনি সম্পাদক মো. জামাল হোসেন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুল কবির মাস্টার, গজারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট অজয় চক্রবর্তী, সাংবাদিক মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল ও মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি রাসেল মাহমুদ প্রমুখ।

পুলিশ সুপার বলেন, তিনি যোগদানের পর গত আড়াই মাসে মাদকের ২৫০ মামলা হয়েছে এবং সাড়ে তিন শ’ মাদক সংক্রান্ত আসামীকে গ্রেফতার করে হাজতে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এতে কোন প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। পুলিশ সুপার বলেন, মাদকের অবস্থা এরকম- জেলার ১৫ লাখ মানুষের মধ্যে এক লাখ লোককে যদি জেলখানায় নেয়া যায় তবে প্রভাব পরবে। কিন্তু এত লোককে জেল খানায় রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু মাদক নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে সামজিকভাবে এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বেশী বেশী সচেতনতায় মিটিং করতে হবে। ঘরে ঘরে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। এসপি বলেন, কথা না থেকে আসুন কাজে নেমে পরি। মহল্লায় মহল্লায় মাদকবিরোধী কমিটি এবং আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মাদকাসক্তদের নিমূল করতে হলে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, মোবাইলে মোবাইলে কথা বলেও মাদক বিক্রি হচ্ছে। যে সব পুলিশ এর সাথে সপৃক্ত শোনাগেছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এখন সমাজ রক্ষায় মাদকের বিরুদ্ধে সকলকে ঝাপিয়ে পরার আহ্বান জানানো হয় জেলার এই গুরুত্বপূর্ণ সভায়।

সুকুমার রজ্ঞন ঘোষ এমপি বলেন, এই জেলায় এত মাদক রয়েছে। যা একত্রে করলে বিক্রমপুরের নদীতে চর পরে যাবে। মাদকের বিরুদ্ধে বড়ধরণের সচেতনতামূলক কর্মসূচীর বিষয়ে গুরুত্বারোপক করে তিনি বলেন, বছর দুই আগে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ মাদকবিরোধী শোভাযাত্রা শ্রীনগরে বের হয়। আবারও তা করতে হবে। অ্যাডভোকেট মৃনাল কান্তি দাস এমপি বলেন, ধর্মন্ধতা, মৌলবাদ, কুসসংস্কার বা পশ্চাদপদতা থেকেই নৈরাজ্য ও জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাসবাদ শুরু হয়। এই ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। জঙ্গীরা মাঝে মাঝে স্থির থেকে তারা দম নেয়, আক্রমন পরিচালনার জন্য শক্তি সঞ্চার করে। তাই বসে থাকার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, মুন্সীগঞ্জে সম্প্রদায়িক শক্তি নেই। তবে আশ্রায় নিতে পারে। এই জেলায় পদ্মা সেতুসহ মেঘা প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। বিদেশীরা এখানে কর্মরত রয়েছে। তাই সর্তক থাকতে হবে।

জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা সভাপতির ভাষণে বলেন, মুন্সীগঞ্জের প্রধান সমস্যা মাদক ও বালু উত্তোলন। কারা মাদকের সাথে আছে, কারা বালু উত্তোলনের সাথে রয়েছে তা সনাক্ত করে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। এই প্রধান সমস্যাগুলো নিরসেনে পরবর্তী সভায় ছোট আকারের কমিটি গঠন করে এব্যাপারে কাঠোর পদক্ষেপ গ্রহনের কথা জানান। তিনি বিভিন্ন সরু রাস্তায় ড্রেজিংয়ের পাইপ স্থাপনে রাস্তা সরু করে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানান। লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসী, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুদের ব্যাপারে ঘন ঘন মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

এছাড়া সভায় জঙ্গীবাদ, বাসভাড়া তথ্য আপডেট রাখা, নাব্য সঙ্কটে কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়া ফেরি সার্ভিস, মেঘনা সেতুর কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট, আলু মৌসুম শুরু আগেই সারের সরবরাহ স্বাভাবিককরণ, হাসপাতালের ডায়গনস্ট্রিক সেন্টার ও ক্লিনিকের দালালদের হাসপাতালে উৎপাত, নিরাপত্তাহীনতা, এ্যাম্বুলেন্স সঙ্কট এবং ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের শ্রীনগরে ট্রমা সেন্টার নির্মাণ ধীরগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

জনকন্ঠ

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s