গজারিয়ায় ১০ টাকা কেজি চাল বিক্রিতে ব্যাপক অনিয়ম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ১০ টাকা কেজি চাল বিক্রিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর আওতায় হতদরিদ্র পরিবার তালিকা তৈরিতে জনপ্রতিনিধিদের স্বজনপ্রীতি, ডিজিটাল মেশিনে চাল মাপার স্থলে মেপে দেয়া হচ্ছে বালতি দিয়ে, তালিকায় নাম থাকলে চাল পাচ্ছে না হতদরিদ্র পরিবার, মাঠ পর্যায় নেই সঠিক তদারকি ও ওজনে কম দিয়ে বিক্রিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।

গজারিয়া উপজেলায় ৮টি ডিলার কেন্দ্রর মধ্যে বিভিন্ন স্থানে একাধিক কেন্দ্রে সরজমিনে দেখা যায় ডিজিটাল মেশিনে না মেপে চাল মেপে দেয়া হচ্ছে বালতি দিয়ে। ৩০ কেজি চাল দেয়ার স্থলে দেয়া হচ্ছে ২৫ কেজি চাল। মাঠ পর্যায় বিভিন্ন ডিলার কেন্দ্রে ঘুরে দেখা যায়নি খাদ্য অফিস থেকে তদারকিরত কোন কর্মকর্তাকে।

টেংগারচর ইউনিয়নের ডিলার মো. খবির আহম্মদ খানের কেন্দ্রে দেখা যায় উত্তর শাহাপুর গ্রামের সামছুল হকের স্ত্রী আছমা ১০ টাকা মুল্যে চাল ক্রয় করতে এসে হাতে লিখা ১টি টোকেন ডিলারকে দিয়ে ৩০ কেজি চাল দিতে বলেন। এ সময় ছবিসহ কার্ড পেয়েছেন কি না চাল ক্রয়ের জন্য জবাবে আছমা জানান তা জানিনা, মেম্বার আতাউর আমাকে এ কাগজ দিয়ে বলেছেন এটা দেখালে চাল নেয়া যাবে। এর রহস্য জানতে গিয়ে ডিলার খবির আহম্মদ এর কাছে হতদরিদ্র পরিবারের নামের তালিকা চাওয়া হলে, তিনি জানান তালিকা আমার কাছে নেই। তা আছে ফুড অফিসার ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এর নিকট।

হতদরিদ্র তালিকা বিষয় তিনি জানান মেম্বার ও চেয়ারম্যান মিলে চুড়ান্ত তালিকা ফুড অফিসারকে দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী বিক্রি করা হচ্ছে চাল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মেম্বার জানান, হতদরিদ্র পরিবার তালিকা তৈরিতে জনপ্রতিনিধিদের স্বজনপ্রীতি এবং একাধিক ওয়ার্ডের হতদরিদ্র লোক তালিকায় নাম থাকলেও চাল কিনতে আসেনি ডিলার খবির আহম্মদের সেন্টারে।

এদিকে ডিলার খবির স্বীকার করেছেন সেপ্টেম্বর মাসে ৬’শ কার্ডের জায়গায় ৫’শ কার্ডের চাল বিক্রি করেছেন। ডিউ কাটিয়েছেন ১৮ টন চালের। হাতে লিখা টোকেন নিয়ে আসা হতদরিদ্র আছমাকে ডিলার খবির গ্রাম পুলিশ শিকদার ও স্থানীয় আছানসহ সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ৩০ কেজি চাল মেপে দেয়ার স্থলে ২ বালতি চাল আছমার বস্তায় দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া হলো ৩০ কেজি চাল । সেই চাল ডিজিটাল মেশিনে মেপে দেখা যায় ২৭ কেজি চাল হয়েছে। ওজনে কম দেয়া ও বালতি দিয়ে মেপে দেয়ার জবাবে ডিলার জানান প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি চাল পাওয়ার স্থলে ৪৮ কেজি চাল পাওয়া যায়। এই কম ওজন গ্রাহকদের মধ্যে দেয়া হচ্ছে ব্যবসা টিকাতে গিয়ে। বিষয়টি ফুড অফিসার গোলাম কবির জানেন।

গ্রাম পুলিশ শিকদার ও স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন ডিলার খবির বালতি দিয়ে ৩০ কেজি চাল দিলে তা ২৫ কেজি হয়। তালিকায় নাম দেখে অনেকের টিপ সই রেজিষ্টার খাতায় নিয়ে রাখেন। তাদের নামের চাল এবং খাদ্য অধিদপ্তরের সীল মারা বস্তা পাল্টিয়ে অন্য বস্তায় চাল রেখে তালিকা বহিরভূত লোকের কাছে বাজার মুল্যে চাল বিক্রি করেন।

উপজেলা খাদ্য নিয়োন্ত্রক গোলাম কবির জানান মাঠ পর্যায় তদারকি নেই এটা সঠিক নয়। প্রতিটি ডিলার সেন্টারে ট্যাগ অফিসার আছেন। কোথাও কোন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। গ্রাহকদের ওজনে কম দেয়া ও বালতি দিয়ে চাল মাপা হয় বিষয়টি আমি জানিনা। এমন হলে ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও জানান সেপ্টেম্বর মাসের ডিউ থেকে কোন চাল ফেরত আসেনি।

জনকন্ঠ

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s