ঘর তুলে বোনকে বিয়ে দেওয়া হলো না ফয়সালের!

মো.সুজন: বড় ঘর তুলে একমাত্র বোন লিখুনি আক্তার সুমাইয়ার বিয়ে দেওয়ার কথা ছিলো ফয়সালের। অসুস্থ পিতা নজরুল ইসলামের শারীরিক কাজ করার অক্ষমতার কারনে সংসারের বড় ছেলে নিহত ফয়সাল পরিবারের সকল দায় দায়িত্ব নিজ কাদে তুলে নিয়েছিলেন।

পরিবারের ব্যায়ভার বহন করার জন্য সপ্তাহে ৬দিন রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসাবে কাজ করতো সে এবং একদিন ক্লাস করতে যেতো তার বিদ্যাপিঠ হরগঙ্গা কলেজে। অক্রান্ত পরিশ্রম করে সংসারের চাকা সচল রাখছিলো ছেলেটি।

সেই কর্মক্ষম ছেলেটিকে কি কারনে অকাল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হলো তা জানেনা তার মা-বাবা। তাইতো সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায় বার বার কান্নায় ভেঙ্গে পরছে তারা মা বাবা সহ আতœীয় স্বজনরা। এদিকে মিরাজ সরকারকে প্রধান আসামী করে মঙ্গলবার রাতে ৯ জনের নামে এ মামলা দায়ের করেছে নিহতের পিতা নজরুল ইসলাম। এই হত্যাকান্ডের সাথে এলাকার কয়েক প্রভাবশালী পরিবারের লোকজন জড়িত বলে উল্লেখ করে মামলার বাদী নজরুল ইসলাম জানান, ওই প্রভাবশালীদের নামে আমরা অভিযোগ করলেও পুলিশ রহস্যজনক কারনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি। এদিকে নিহতের চাচা নুরুল ইসলাম ঢালী জানান, আমরা থানায় অভিযোগ করার আগে স্থানীয় এক নেতার সাথে দেখা করে আমাকে তারপর থানায় অভিযোগ দায়ের করতে বলেছে খুনিদের আতœীয় স্বজনেরা।

আমি ওই নেতার সাথে দেখা না করায় আমাকে মোবাইল ফোনে হুমকী দিচ্ছে। এদিকে বাদী অভিযোগ করে বলেন এ ঘটনায় এলাকার প্রসান্ত সাহা নামে এক ব্যাক্তিকে এলাকাবাসী ধরিয়ে দিলে পুলিশ বলে তার কাছে ব্যাপক তথ্য পাওয়া যাবে। কিন্তু তথ্য উদ্ধারের জন্য ওই আসামীকে রিমান্ডে না নিয়ে পুলিশ তাকে উল্টো ছেড়ে দিয়েছে। পুলিশের রহস্যজনক আচরণে তারা নায্য বিচার পাবে না বলে হতাশা প্রকাশ করে প্রকৃত খুনিদেরদ দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান। এদিকে আহত আকাশ ও মাসুম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে নিবির পরিচর্যায় রয়েছেন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে তাদের স্বজনরা জানিয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তারেকুজ্জামান জানান, বাদী যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে আমরা তাদের বিরুদ্ধেই মামলা নিয়েছি। প্রসান্ত সাহাকে ওই এলাকার কতিপয় ব্যাক্তি ধরিয়ে দিয়েছিলো কিন্তু আমরা তদন্ত করে দেখি সে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধি এ জন্য তাকে ছেড়ে দিয়েছি।

উল্লেখ্য প্রেম সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় সোমবার রাতে ফয়সাল নামের যুবককে কুপিয়ে খুন করা হয়। জানাগেছে, উপজেলার নয়াদিঘির পাড় গ্রামের এক কলেজ ছাত্রীকে একই গ্রামের মিরাজ এবং পার্শ্ববর্তী সদর উপজেলার নোয়দ্দা ঢালী কান্দি গ্রামের ফয়সাল প্রেমিকা দাবি করে আসছিলো। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে দন্ধ চলছিল। সোমাবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ফয়সাল তার বন্ধুদের নিয়ে উপজেলার পুড়া বাজারের কাছে শীতলা মন্দিরে পূজা দেখতে গেলে পূজা মন্ডবের নিকটে আনন্দ দাশের বাড়ির সামনে অস্ত্রসস্ত্রসহ ফয়সালের উপর হামলা চালায় মিরাজ ও তার লোকজন। এতে ঘটনাস্থলই ফয়সাল (২১) মৃত্যূ বরণ করে।

সে নোয়াদ্দা ঢালি কান্দি গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে । এ সময় ফয়সালের লোকজন বাধা দিতে গেলে সংঘর্ষের রূপ নেয় এতে ৪ জন আহত হয়। আহত ৩ জনকে আশংঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত মাসুম (২৫) এবং আকাশ (২২) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিকিউতে আশংঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছে এবং শাহিন (১৭) এর চিকিৎসা চলছে। আহত শাহিন নোয়দ্দা ঢালী কান্দি গ্রামের ইয়াছিন ঢালী, আকাশ ওই গ্রামের শফি চোকদার এবং মাসুম একই গ্রামের খোকন ঢালীর ছেলে। এদিকে ঘাতক মিরাজ সরকারকে (২১) এলাকাবাসী ধরে গণপিটুনী দিয়ে পুলিশে সোপদ্দ করলে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাকেও পুলিশ পহরায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। সে নয়া দিঘিরপাড় গ্রামের সিরাজ সরকার এর ছেলে।

এদিকে খুন হওয়া ফয়সালের লাশ নিয়ে মিছিল করেছে এলাকাবাসী। নিহতের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার নোয়াদ্দা ঢালী কান্দি গ্রাম হতে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মিছিলটি বের হয়ে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পুড়া মন্দির হয়ে পুড়া বাজারের ব্রীজের ঢালে মিছিলকারীরা অবস্থান নেয়। এ সময় তারা মুক্তারপুর দিঘিরপাড় সংযোগ সড়কের উপরে অবস্থান করে প্রায় ১ ঘন্টা রাস্তা অবরোধ করে রাখে। পরে সদর উপজেলার মোল্লা কান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কল্পনা বেগম এবং টঙ্গীবাড়ী থানা এসআই তারেকুজ্জামান দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী রাস্তার উপর হতে অবরোধ তুলে নেয়। পরে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে জানাজা শেষে নিহতের লাশ বেশনাল সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

স্বাধীনবাংলা

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s