জেলেদের কান্না থামছে না, জোটেনি সরকারি চাল

মঈনউদ্দিন সুমন: পদ্মা, মেঘনাসহ নদ-নদীতে টানা ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষেধ। এ জন্য জেলেদের জন্য ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ করেছে সরকার। কিন্তু নদীবেষ্টিত মুন্সীগঞ্জের নয় হাজার ৮১৩ জন জেলের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। কর্মহীন জেলেরা এখন মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।

হতভাগা জেলেদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় দুই হাজার ৪৩৫ জন, গজারিয়ায় দুই হাজার ৫৬ জন, শ্রীনগরে এক হাজার ৯৯৪ জন, টঙ্গিবাড়ীতে এক হাজার ৪৭ জন, সিরাজদিখানে ৯৯২ জন ও লৌহজং উপজেলায় এক হাজার ২৮৯ জন রয়েছেন। প্রতিবছরের নভেম্বর থেকে জুন মাস পর্যন্ত আট মাসে জেলেদের প্রণোদনা বা উৎসাহ জোগাতে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। কিন্তু সরকার দিচ্ছে মাত্র চার মাস।

চলতি মৌসুমে বিভিন্ন নদ-নদীতে ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ থাকায় ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রতি জেলের জন্য ২০ কেজি করে দেশের ১৪টি জেলায় জেলেদের চাল দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাদ পড়েছে মুন্সীগঞ্জ জেলার জেলেরা।

নদীতে মাছ ধরতে না পেরে ও বরাদ্দকৃত চাল না পাওয়ায় গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদরের বাংলাবাজার এলাকার মেঘনার শাখা নদীর পাড়ে জেলেরা মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন মুন্সীগঞ্জ জেলা জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মো. আমান উল্লাহ সরকার।

আমান উল্লাহ সরকার বলেন, ‘অন্যান্য জেলায় সরকার থেকে নদীতে মাছ না ধরার জন্য চাল বরাদ্দ করে থাকলেও মুন্সীগঞ্জে জেলেদের ভাগ্যে জোটেনি এক ছিটা (ছটাক) চালও। ২২ দিন মাছ ধরুম না, খামুডা কী? ঘরে চাল আছিল, তাও শেষ। সঞ্চয়ে বউয়ের কাছে কিছু টাকা ছিল তাও শেষের দিকে, বাকি দিন কেমনে যাইব?’

জেলে মো. রহিম মিয়া বলেন, ‘সব জেলায় চাল জোটে, আমাগো জোটে না কেন? আমরা তো সরকারি আইন মানি, নৌকা নদীতে যায় না, তাইলে আমরা পামু না কেন? আমাগো কথা শুনার লোক নাই, আমাগো দেখার কেউ নাই, কই যামু?’

জেলে জালাল উদ্দিন মিয়া বলেন, ‘নদীতে নৌকা নামে না, জাল নৌকাতে পইড়া আছে, খাওন দিতে কন সরকাররে। না দিলে তো পুরা পরিবার না খাইয়া মইরা যাইব গা।’

যোগাযোগ করা হলে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস বলেন, ‘আমি শুক্রবার শুনেছি, আমার এলাকার জেলেরা চাল পাননি। আমি শুনেই জেলা মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত চালের ব্যবস্থা করছি যাতে আমার এলাকার জেলেরা চাল থেকে বঞ্চিত না হন।’

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক শায়লা ফারজানা বলেন, ‘অতিরিক্ত কেবিনেট সচিব মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। পুনরায় চিঠি দিতে বলেছেন। দ্রুত জেলেদের চাল বরাদ্দের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ জেলার জেলেরা চাল পাবে আমি আশাবাদী।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. অলিয়ুর রহমান বলেছেন, ‘২২ দিনে জেলার প্রতিটি জেলেকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বরাদ্দ না পাওয়ায় তা দিতে পারছি না। মুন্সীগঞ্জের জেলেরা নদীতে মাছ না ধরার নির্দেশনা মেনে চলছেন।’

এনটিভি

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s