মুন্সীগঞ্জে মা ইলিশ ধরছেনা জেলেরা

পদ্মা ও মেঘনাসহ নদ-নদীতে ২২ দিন ইলিশ না ধরার জন্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। ২০ কেজি করে সরকারি চাল জেলদেরকে দেয়ার কথা থাকলেও বরাদ্দ নেই মুন্সীগঞ্জের জেলেদের। চালের বরাদ্দ না থাকায় কষ্টে জীবন যাপন করছেন মুন্সীগঞ্জের ৯ হাজার ৮১৩ জন জেলে। ইলিশ মাছ বাঁচাতে সরকার জোরালো আইনি ব্যবস্থা নিয়ে থাকলেও জেলেদের বরাদ্দকৃত চাল নেই মুন্সীগঞ্জের জেলেদের।সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর থেকে টানা ২২দিন নদ-নদীতে ইলিশ না ধরার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। এর জন্য জেলেদেরকে ২০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী ও ইছামতি বিধৌত জেলা মুন্সীগঞ্জের ৯ হাজার ৮১৩ জন জেলেদের ভাগ্যে জুটছে না বরাদ্দকৃত চাল।

চলতি মৌসুমে বিভিন্ন নদ-নদীতে ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ থাকায় ত্রান মন্ত্রণালয় থেকে প্রতি জেলের জন্য ২০ কেজি করে দেশের ১৪টি জেলায় জেলেদের চাল দেয়া হচ্ছে নভেম্বর থেকে জুন মাস পর্যন্ত ৮ মাসে। জেলেদের প্রনোদনা বা উৎসাহ যোগাতে ৪০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা। কিন্তু সরকার দিচ্ছেন মাত্র ৪ মাস। কিন্তু তালিকাতে বাদ পড়েছে মুন্সীগঞ্জ জেলার জেলেরা।

জেলেদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদরে ২ হাজার ৪৩৫ জন, শ্রীনগরে ১ হাজার ৯৯৪ জন, গজারিয়ায় ২ হাজার ৫৬ জন, টঙ্গীবাড়ীতে ১ হাজার ৪৭ জন, লৌহজং উপজেলায় ১ হাজার ২৮৯ জন, সিরাজদিখানে ৯৯২ জন রয়েছেন। ভিজিএফ কার্ডধারী রয়েছেন ২ হাজার ৩৩৫ জন।

উল্লেখ্য গত শুক্রবার বরাদ্দকৃত চাল না পাওয়ায় মুন্সীগঞ্জ সদরের বাংলাবাজার এলাকার মেঘনার শাখা নদীর পাড়ে বেলা ১১টার দিকে মানববন্ধন করেছে জেলেরা। মুন্সীগঞ্জ জেলা জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মো. আমান উল্লাহ সরকার মানববন্ধনের নেতৃত্ব দেন।

জেলে মো.আমান উল্লাহ সরকার বলেন, অন্যান্য জেলাতে সরকার থেকে নদীতে মাছ না ধরার জন্য চাল বরাদ্দ করে থাকলেও মুন্সীগঞ্জে জেলেদের ভাগ্যে জোটেনি একসিটা চাউলও। ২২ দিন মাছ ধরুম না, খামি ডা কি? ঘড়ে চাউল আছিল, তাও শেষ। সঞ্চয়ে বৌউর কাছে কিছু টাকা ছিল তাও শেষের দিকে, বাকি দিন কেমনে যাইব ?

জেলে জালাল উদ্দিন মিয়াঁ জানান, নদীতে নৌকা নামে না, জাল নৌকাতে পইড়া আছে, খাওন দিতে কন সরকাররে। না দিলে তো পুরা পরিবার না খাইয়া মইরা যাইব গা।

মুন্সীগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস জানান, আমার এলাকার জেলেরা চাল পায়নি আমি শুক্রবার শুনেছি, দুর্যোগ ও ব্যাবস্থাপণা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চালের ব্যাবস্থা করা হচ্ছে। জেলেরা যাতে চাল পায়, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা জানান, অতিরিক্ত কেবিনেট সচিব মহোদয়ের সাথে কথা হয়েছে, পুনরায় চিঠি দিতে বলেছে। দ্রত জেলদের চাল বরাদ্দের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড.অলিয়ুর রহমান বলেছেন, ২০ কেজি করে চাল ২২ দিনে জেলার প্রতিটি জেলেকে দেয়ার কথা ছিল। মুন্সীগঞ্জের জেলেরা নদীতে মাছ না ধরার নির্দেশনা মেনে চলছেন। কিন্তু বরাদ্দ না পাওয়ায় তা দিতে পারছি না

বিডিলাইভ

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s