ধলেশ্বরীতে আবারও অবৈধ বালু উত্তোলন

মো.শাখাওয়াত হোসেন: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সিরাজদিখান উপজেলায় পদ্মা নদীর শাখা তালতলা ডহরি নাটেশ্বর গ্রামের সামনে থেকে আবারও শুরু হয়েছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। গত ১৫ জুন ঢাকাটাইমস-এ খবর প্রকাশের পর সিরাজদিখান সহকারী কমিশনার ভূমি বেগম শাহিনা পারভিনের হস্তক্ষেপে বালু উত্তলন বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু অসাধু চক্রটি সম্প্রতি আবার বালু উত্তোলন শুরু করেছে।

জেলার টংগীবাড়ি উপজেলার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এসব নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে নদী থেকে বালু কাটায় হুমকির মুখে পড়েছে নদীতীরবর্তী এলাকার জমি, ঘরবাড়ি ও স্থাপনা।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকা-ডহরি, সূবচনী তালতলা, নাটেশ্বর দক্ষিণপাড়া, নাটেশ্বর দাসপাড়া ও মালখানগর ইউনিয়নের ঘাট পর্যন্ত আটটি স্থান থেকে বালু তোলা হচ্ছে।

জানা গেছে, টংগীবাড়ি উপজেলার শিলিমপুর ইউনিয়নের লাবু শিকদার, কাইচাইল এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ছোবাহান হাওলাদারের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী মহল বেশিরভাগ স্থান থেকে বালু কাটা নিয়ন্ত্রণ করছে।

অভিযুক্ত ছোবাহান হাওলাদার বালু তোলার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি শুধু বালু তোলার কাজ দেখভাল করছি। আমি বালু উত্তোলন করছি না। বালু তোলার কাগজপত্র ফুলন মেম্বার ও জাহাঙ্গিরের কাছে আছে। ওরা বৈধভাবেই ড্রেজার দিয়ে বালু তোলছে।

মালখানগর ইউনিয়নের সাবেক ৯নং ওর্য়াডের সদস্য মৃত আউয়াল মোল্লার স্ত্রী নাজমা বেগম বলেন, প্রতিবছর বর্র্ষায় ড্রেজার দিয়ে এবং নদী শুকিয়ে গেলে শত শত ট্রাক্টর-মালিক এখান থেকে তোলে নিয়ে যান।

এটা টংগীবাড়ি উপজেলার শিলিমপুর ইউনিয়নের লাবু শিকদার, কাইচাইল এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ছোবাহান হাওলাদারের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী মহলের পক্ষে কিছু লোকের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

মালখানগর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলামীন মোল্লাসহ এলাকার বেশ কয়েকজন অভিযোগ করেন, শুধু শুকিয়ে যাওয়া নদীর মাটিই নয়, জমির নীচ থেকে ইচ্ছামতো নদীপাড়ের বালু মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এ কারণে আশপাশের ফসলি জমি ও মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখান সংযোগ কু-ের বাজারের সেতু হুমকির মুখে পড়েছে। নষ্ট হচ্ছে রাস্তাঘাট। বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহম্মেদকে মৌখিকভাবে এলাকার সবাই অবগত করেছি। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

মালখানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ নাটেশ্বর গ্রামের মন্নাফ মোল্লার ছেলে মোতালেব মোল্লা, মৃত আহম্মেদ হাওলাদারের ছেলে আমিনূল হাওলাদার, উত্তম দাসের স্ত্রী বীনা রানী দাস ও মৃত সদানন্দ দাসের স্ত্রী অঞ্জলী রানী দাস জানান, তাঁদের স্বামী, বাপ-দাদার পৈতৃক জমি বালু কাটার ফলে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

তারা প্রতিবছর ওই জমির খাজনা দিয়ে আসছেন। তাদের বাড়ি ও জমি থেকেই ওই সব প্রভাবশালী ব্যক্তি বালু কাটছেন বলে তারা দাবি করেন। উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এর কঠোর বিচার চান তারা।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীনা পারভীন জানান, ওই খানে আমরা একবার বালুকাটা বন্ধ করে ছিলাম। ওই স্থানগুলো বালুমহাল হিসেবে খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় স্থানীয় লোকজন যে যার মতো প্রভাব খাটিয়ে বালু তুলছে। তবে অন্যায়ভাবে বালু উত্তোলন করলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানবীর মোহাম্মদ আজীম বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে আসেনি। কেউ বালু উত্তোলন করলে প্রয়োজনে অভিযান চালানো হবে। অচিরেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকাটাইমস

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s