কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ হলে বদলে যাবে গজারিয়া

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুরা ও ষোলআনীতে সরকার ঘোষিত কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণ হলে বদলে যাবে গাজারিয়ার উন্নয়ন চিত্র। সারাদেশে নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুত পৌছে দিতে সরকার গজারিয়ায় কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। গজারিয়ায় এই বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণ হলে উন্নয়নের নতুন এক মাত্রা যোগ হবে এই বিদ্যুত কেন্দ্রটি। সরকার জমির মালিকদের জমির প্রাপ্যমূল্য দিয়ে জমি অধিগ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশও দিয়েছিলেন। সরকারের এই উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য জমি দিতে রাজীও হয়েছিল জমির মালিকগন। কিন্তু বিগত দিনে যারা সাধারন কৃষকদের জায়গা দখল করেছিল তারাই এখন স্বার্থ হাসিলের জন্য কৃষকদের ভূল বুঝাচ্ছে। এবং বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাাণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। যা রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকান্ডের সামিল। কৃষকদের সরকার বিরোধী অবস্থানে দাঁড় করিয়েছেন গজারিয়া উপজেলার জাতীয় পার্টির নেতা হাজী মোঃ কলিম উল্লাহ। তিনি এখন কৃষকদের অর্থের যোগান দিয়ে আন্দোলনের নামে সরকারের বাস্তব মুখী উন্নয়নে বাঁধাগ্রস্থ করছেন। এমটাই অভিযোগ স্থানীয় গ্রামবাসীদের।

ষোল আনী গ্রামের বাতেন জানান, সরকার দেশে বিদ্যুতের উন্নয়নের জন্য আমাদের এলাকায় কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাাণের সিদ্ধান নিয়েছে। যারা এখন আন্দোলন করতেছে তাদের অনেকেরই এখানে জমি নেই। বিগত দিনে সাধারন কৃষকদের জমিগুলো যারা জোর করে দখল করেছিল। সরকারের এই সিদ্ধান্তে ভুমি দস্যুদের খাবার বন্ধ হয়ে গেছে।এখন কৃষক তার জমির বদলে সমপরিমান টাকা পাবে।এজন্য কৃষকদের উল্টা পাল্টা বুঝিয়ে সরকারের উন্নয়ন কাজে বাঁধা দিচ্ছে কতিপয় স্বার্থেন্নেসী মহল।

স্থানীয়রা দৌলতপুরের বাসিন্ধা আলমগীর জানান, এই বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণ হলে এখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুত জাতীয় গ্রীডে যোগ হলে দেশে বিদ্যুত চাহিদা কিছুটা হলেও মেটাতে পারবে। তবে এই বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণে এলাবাসী ও পরিবেশের ক্ষতিকার বিষয়গুলিও গুরুত্বসহকারে দেখতে হবে।

ইমামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ খাঁন জিন্নাহ বলেন, সরকার দেশের বিদ্যুৎ উন্নয়নের স্বার্থে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে না মেনে নেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। যারা বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করে যাচ্ছে তারা কতটুকু সফল হবে সেটা একমাত্র তারাই বলতে পারবে।

আন্দোলনের কথা স্কীকার করে গজারিয়া উপজেলার জাতীয় পার্টির নেতা কলিমউল্লাহ বলেন, এই কৃষকদের জমি বাঁচাতে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছি। এতে আমার প্রায় ৫-৬ লক্ষ টাকাও খরচ হয়েছে। আপনার ওখানে কত পরিমান জমি আছে ? জবাবে তিনি বলেন, আমার নিজের নেই তবে বাপ দাদাদের আছে। তিনি আরো বলেন, আমরা বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করতেছি। কোন মতে এখানে কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে দেয়া হবেনা।

মুন্সীগঞ্জে সদ্য যোগদানকারী জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা বলেন, গজারিয়ায় কয়লা ভিত্তি তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র নিয়ে যারা আন্দোলন করতেছে তাদের সাথে আমরা কথাবার্তা বলেছি। তারা কি চায় এবং তাদের দাবি কি এ বিষয়ে মতবিনিময় করতেছি।

উল্লেখ্য- রুরাল কোম্পানী লি: মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলাধীন ইমামপুর ইউনিয়নের ষোলআনী ও দৌলতপুর মৌজায় ৩১৪ একর জমির উপর প্রস্তাবিত ৩৫০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করার প্রকল্প গ্রহন করে সরকার।

চমক নিউজ

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s