জাপান প্রবাসীদের প্রিয় সঞ্জয় দা আর নেই

জাপান প্রবাসীদের প্রিয় মুখ, একজন সফল সংগঠক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, জাপান প্রবাসী সঞ্জয় দত্ত আর নেই। ১ ডিসেম্বর অতিপ্রত্যুষে (ভোর ৩টা ১২ মিনিট) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। তিনি স্ত্রী সীমা দত্ত এবং দুই নাবালক শিশু সন্তান সৌম্য দত্ত (১২) এবং শুভ্র দত্তকে (৫) রেখে যান। এ ছাড়াও জাপানে তার ছোটভাই বাচ্চু দত্ত সপরিবারে বসবাস করছেন।

গত বছর ২৩ ডিসেম্বর হঠাৎ মস্তিষ্কে জটিল রোগে অসুস্থতাবোধ করে অবচেতন হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তার হার্ট অ্যাটাক-সহ মস্তিষ্কে জটিল রোগের কথা জানান এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণ কক্ষে নিয়ে যান। এ সময় তাকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়। দীর্ঘদিন আইসিইউতে রেখে লাইফ সাপোর্টসহ সর্বাধুনিক চিকিৎসা সুবিধা দেয়া হয়। কিন্তু সকল প্রযুক্তি ব্যর্থ প্রমাণ করে অবশেষে মৃত্যুর হিমশীতলতাকেই আলিঙ্গন করতে হয় তাকে। দীর্ঘ প্রায় এক বছর হাসপাতালে অবচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকাকালীন একাধিকবার হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়। তার মৃত্যুতে প্রবাসী সমাজে শোকের ছায়া নেমে আসে। এক নজর দেখার জন্য অনেকেই হাসপাতালে ছুটে যান।

সর্বদা মিষ্টভাষী, সদালাপি এবং সদাহাস্যোজ্জ্বল সঞ্জয় দত্ত ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে সকলের মন জয় করে সকলের প্রিয় সঞ্জয় দা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন।

তিনি ছিলেন নেপথ্যের কারিগর। পর্দার আড়ালে থেকেই তিনি কাজ করতে পছন্দ করতেন। উত্তরণ বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক দলের প্রাক্তন লিডার এবং সার্বজনীন পূজা কমিটি জাপান-এর উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে জড়িত ছিলেন সঞ্জয় দা। তিনি একজন ভালো তবলাবাদক ছিলেন।
চট্টগ্রামের পাথরঘাটা নিবাসী সঞ্জয় দত্ত ১৯৮৭ সালে জাপান এসেছিলেন ভাগ্যের অন্বেষণে। প্রথমে বেশ কয়েক বছর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার পর নিজেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ব্যবসায়ী মহলেও তিনি একজন সজ্জন হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। জাপানি সমাজেও তার বেশ পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা ছিল।

৩ ডিসেম্বর শনিবার সকাল ৮.৩০ মিনিটের সময় টোকিওর শিনজুক সিটির ওচিআই কাসোবা (সাইজো)তে মরহুমের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় মরহুমের পরিবার-পরিজন, নিকটাত্মীয় ছাড়াও সব ধর্মের সব বর্ণের শতাধিক প্রবাসী উপস্থিত থেকে তাদের শেষ শ্রদ্ধা জানান। ছুটির দিনের সকালের ঘুম পরিত্যাগ করে এবং শীতকে উপেক্ষা করে প্রবাসীরা সকাল ৭.৩০ মিনিট থেকেই শ্মশানে জড়ো হতে শুরু করেন। শোকে মুহ্যমান স্ত্রী সীমা দত্তের আহাজারিতে একপর্যায়ে প্রবাসীরা আর চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। এ সময় অনেক জাপানিজ সুহৃদদেরও কাঁদতে দেখা যায়।

পুরোহিতের ধর্মীয় আচার এবং তপন পালের গীতা থেকে অংশবিশেষ পাঠশেষে জাপান আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে প্রতীকী মুখাগ্নি করেন তার বড় ছেলে সৌম্য দত্ত। সব শেষে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে সারিবদ্ধভাবে প্রবাসীরা তাকে শেষ বিদায় জানান।

সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার দেহ ভস্ম গ্রহণ করেন মরহুমের ছোট ভাই বাচ্চু দত্ত। এ সময় তার পাশে ছিলেন মরহুমের দুই ছেলে সৌম্য এবং শুভ্র। বাচ্চু দত্ত প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং বড় ভাইয়ের ভুলত্রুটি থেকে থাকলে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

rahmanmoni@gmail.com
সাপ্তাহিক

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s