মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধনের প্রতিবাদে টোকিওতে মানববন্ধন

রাহমান মনি: মিয়ানমারে সরকারি বাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গা মুসলিম নিধন নামে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস এবং ভারতে মুসলমান, বাংলাদেশে হিন্দু ও সাঁওতাল সম্প্রদায়সহ বিশ্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নৃগোষ্ঠীর ওপর সংখ্যাগুরু বা ধর্মান্ধতায় পৈশাচিকতার প্রতিবাদে জাপান প্রবাসী কম্যুনিটি এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে রাজধানী টোকিওর প্রাণকেন্দ্রে।

১১ ডিসেম্বর রোববার টোকিওর তোশিমা সিটি ইকেবুকুরো নিশিগুচি কোয়েনের টোকিও শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ প্রতিবাদ ও মানববন্ধনের আয়োজক ছিল জাপান প্রবাসী কম্যুনিটির আড়ালে সুশীল সমাজ। হেমন্তের কনকনে শীতের মধ্যেও টোকিও এবং আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ স্মরণকালের এই বিশাল মানববন্ধনে অংশ নিলেও স্বাভাবিকভাবেই অনুপস্থিত ছিল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। যদিও এর আগে বাংলাদেশের রামুতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ওপর ন্যক্কারজনক ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিবাদ সভা ডেকে ক্ষোভ জানিয়েছিল। তাই ১১ ডিসেম্বর মানববন্ধনে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অনুপস্থিতি বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রবাসীরা প্রশ্ন করেন তবে কি ‘জীব হত্যা মহাপাপ’ এবং ‘জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’ মতবাদের আড়ালে মুসলিম হত্যা এবং রোহিঙ্গা নিধন এবং বিতাড়িত করার কর্মসূচিতে তাদের সায় রয়েছে। নইলে অনুপস্থিত থাকবেন কেন?

জাপান পুলিশ বিভাগে অবহিত করে প্রবাসীরা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকলে স্থানীয় ইকেবুকুরো পুলিশ স্টেশন ছাড়াও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা প্রবাসীদের শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিতে সহায়তা করেন। এ সময় প্রতিবাদকারীদের হাতে বিভিন্ন ব্যানার, প্লাকার্ড, পোস্টার ও ফেস্টুন শোভা পায়। জাপানিজ, ইংলিশ এবং বাংলা ভাষায় লিখা এসব প্লাকার্ডে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নৃশংস হত্যাকা- বন্ধ করা, তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া, ভারতে মুসলিম নির্যাতন বন্ধ করা এবং বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায় ও অতিসম্প্রতি সাঁওতালদের ওপর ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখাসহ নৃগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় এগিয়ে আসার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয় শান্তিপ্রিয় এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে।

ইংরেজিতে এবং জাপানি ভাষায় প্লাকার্ড লিখা হলে অনেক বিদেশিসহ স্থানীয় জাপানিরা সহজেই মানববন্ধন কর্মসূচির কারণ বুঝতে পারেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং কেউ কেউ একাত্মতা প্রকাশ করে। বিদেশি সাংবাদিকরাও বিভিন্ন ছবি তোলার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে কোনো প্রকার বক্তব্য না রাখা হলেও প্রবাসী নেতৃবৃন্দদের মধ্য থেকে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এমডি এস. ইসলাম নান্নু, পূজা কমিটির উপদেষ্টা সুখেন ব্রহ্ম, জাপান আওয়ামী লীগ সভাপতি সালেহ মো. আরিফ, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আসলাম হীরা, বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর রেজাউল করিম রেজা, সাংবাদিক কাজী ইনসানুল হক, সাংস্কৃতিক কর্মী ববিতা পোদ্দার, অ্যাডভোকেট হাসিনা বেগম রেখা এবং সাপ্তাহিক জাপান প্রতিনিধি রাহমান মনি বিভিন্ন মিডিয়ার সম্মুখীন হন।

মিডিয়ার সম্মুখীন হয়ে বক্তারা বলেন, মানবতার ক্ষেত্রে কোনো জাত-পাত ও ধর্ম কাজ করে না। বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জীবন বাঁচানোই মানবতার মূল ধর্ম। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয়। কিন্তু মিয়ানমারে গণহত্যায় শান্তিতে নোবেল পাওয়া অং সান সু চি’র নীরবতা তার নীরব সমর্থনের কথাই জানান দেয়। যা কোনোমতেই কাম্য নয়। আমরা তারও নিন্দা জানাই। মানবাধিকার কর্মীদের তেমন কোনো তৎপরতা না থাকারও নিন্দা জানানো হয়। তারা বলেন, আমরা মনে করি রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নির্বিচারে হত্যা, দেশ ত্যাগে বাধ্য করা অবিলম্বে বন্ধ করতে বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত হতে হবে। এ বিশ্ব সবার, ধর্ম যার যার, সৃষ্টি বিধাতার। অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের তাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। বন্ধ করতে হবে গণহত্যা, রোহিঙ্গারাও মানুষ। তাদেরও বাঁচার অধিকার রয়েছে।

rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s