সিরাজদিখানে ইটভাটায় শিশু শ্রমিকদের শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতন

সুজন: মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার ইউনিয়নের বালুরচর ইউনিয়নের এবিসি ইটভাটায় সাতক্ষীরা থেকে লেবার হিসেবে আনা হয়েছে ১৬ জনকে। এদেরকে কয়েকদিন যাবৎ শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে ইটভাটায় কাজ করানো হয়েছে। এদের মধ্যে ১০-১২ বছরের রয়েছে বেশী। দাদন দিয়ে সরদার রবিউল ইসলাম ও তার ফুফাতো ভাই কামরুজ্জামান ১৬জন লোক দাদন দিয়ে সাতক্ষীরা থেকে নিয়ে আসে।

পূর্বে রবিউল দাদন দিয়ে অন্য এলাকার শ্রমিক নিয়ে আসে কিন্তু সে শ্রমিক পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে হাফিজুর ও মজিবুর রহমানকে দিয়ে আরো ১৬জন শ্রমিক নিয়ে কাজে লাগানো হয়। এদের দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করানো এবং যাতে পালিয়ে যেতে না পারে এ জন্য শিকল দিয়ে বেঁধে কাজ করানো হয়েছে।

এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। ইটভাটার মালিক পক্ষ ও দাদন নিয়ে চুক্তিতে ইট তৈরীর দালালদ্বয়ও স্বীকার করেন তাদেরকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে দেখা যায় বেশীর ভাগ শ্রমিক শিশু। শ্রমিকদের মধ্যে আলম, ইকবাল, আব্দুল হামিদ, মো: মাহবুবর রহমান, মো: নুরুল ইসলাম, মো: কাওছার, ইব্রাহীম, বিল্লাল, আশরাফ, সোলেমান, আলমগীর, শহীদ ও বদির নাম পাওয়া গেছে। এদেরকে নিয়ে আসেন হাফিজুর ও মফিজুর। এখানে যতগুলো ইটভাটা রয়েছে প্রত্যেকটি ইটভাটায় এ ধরনের শিশু শ্রমিক সংখ্যা অনেক। প্রশাসনের সামনে কিভাবে এ ধরনের ঝুকিপূর্ণ কাজে শিশুদের লাগানো হচ্ছে? প্রশাসন জেনেও না জানার ভান করছেন।

মালিক পক্ষ, দাদন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের সামনেই শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতন নির্মম বর্ণনা দেন শ্রমিকদের নিয়ে আসা হাফিজুর মজিবুর রহমান। সরদার রবিউল ইসলাম ও তার ফুফাতো ভাই কামরুজ্জামন ও শিকল বেঁধে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেন। তবে উভয় গ্রুপের সাথেই হাতাহাতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন। হাফিজুর রহমান ও মজিবুর রহমান জানান, আমাদেরকে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে এবং বোতলে প্রশ্রাব পায়খানা করতে হয়েছে।

সিরাজদিখান থানার পুলিশ ঘটনাটি যানার পরেও কোন ব্যবস্থা নেইনি। এই ঘটনা সম্পর্কে সিরাজদিখান থানার অফিসার্স ইনচার্জ ইয়ারদৌস হাসান জানান, শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ মিথ্যা।

স্বাধীনবাংলা২৪

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s