জেলার প্রতিটি পূজা মণ্ডপে নবমী তীথিতে দেবী অর্চনায় ভক্তের ঢল

নবমী তীথিতে দেবীর অর্চনায় মুন্সীগঞ্জ জেলার প্রতিটি পূজা মণ্ডপে দর্শণার্থীদের ঢল নেমেছে। এমনই দৃশ্য চোখে পড়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজায়। ২৯ সেপ্টম্বর শুক্রবার সকাল দিকে খানিকটা বৃষ্টির সমস্যা দেখা দিলোও দুর্গোউৎসবের আনন্দ কমেনি। কাদা মাটিতে নেচে গেয়ে দুর্গোউৎসব পালন করে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকলে ছুটে আসেন মা দুর্গার কাছে পূণ্যের আশায়। বিকেল থেকেই দেবী দুর্গার আগমনী গানে মুখরিত হয় চারদিক। সনাতন ধার্মবম্বীদের সর্ববৃহত এই ধর্মীয় উৎসবে মণ্ডপে মন্ডপে ছিল মানুষের ঢল। পরিবার পরিজন নিয়ে মন্ডপগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছেন পূর্ণার্থীরা। ঢোল আর কাশির শব্দে মুখোরিত হচ্ছে পূজোমণ্ডপ এলাকা। রঙ বে রংয়ের আলোর ঝলকানি মণ্ডপে ভিন্ন পরিবেশ শৃষ্টি করেছে।

এ ছাড়াও বিভিন্ন মন্দিরে নিরাপত্তার জন্য রয়েছে পুলিশ ও আসার বাহিনী। শুক্রবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত জেলার প্রতিটি মন্ডপে নবমী তীথিতে চন্ডীপাঠ, যজ্ঞ, চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা, সঙ্কধ্বনি, উলু ধ্বনি, কাঁচ বাজানো কাশি, সর্বশেষ সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজন ছিল। বৃষ্টির কারণে কিছুটা সমস্য হলেও পূজোর আনন্দ কমেনি কোন দিক থেকে। বিহিত পূজার পর দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে মূল দুর্গোৎসবের সূচনা। দশমী পর্যন্ত চলবে মায়ের পূজা।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সূত্রে জানা যায়, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মতে দশভূজা দেবী দুর্গা অসুর বধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতি শরৎ কৈলাস ছেড়ে কন্যারূপে মর্ত্যলোকে আসেন। সন্তানদের নিয়ে পক্ষকাল পিতার গৃহে কাটিয়ে আবার ফিরে যান দেবালয়ে। দেবীপক্ষের সূচনা হয় আশ্বিন শুক্ল পক্ষের অমাবস্যার দিন, সে দিন মহালয়া। দেবী পক্ষের সমাপ্তি পঞ্চদশ দিনে কোজাগরী পূর্ণিমায়, লক্ষমী পূজার মধ্য দিয়ে। আশ্বিন শুক্ল পক্ষের এই ১৫টি দিন দেবীপক্ষ, মর্ত্যলোকে উৎসব চলে। পরে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুর্গোৎসবের। একটি বছরের জন্য দুর্গতিনাশিনী দেবী ফিরে যাবেন কৈলাসে দেবালয়ে। শুক্রবার মহানবমী। শনিবার সকালে দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসব।

মুন্সীগঞ্জ জেলায় এবার ছোট-বড় সব মিলিয়ে মোট ২৮৮টি পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩৫টি, গজারিয়ায় ৯টি, টঙ্গীবাড়ি ৪৭টি, সিরাজদিখান ৯৭টি, লৌহজং ৩২টি এবং শ্রীনগর উপজেলায় ৬৮টি পূজা মন্ডপে সার্বজনীন দুর্গাপূজা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবু সমর ঘোষ বলেন, প্রায় আড়াইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী মুন্সীগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় কালি মন্দিরে প্রতি বছর পাশ্ববর্তীদেশ ভারতের কলকাতা থেকে আমাদের আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্খি দুর্গোউৎসবে এ পূজা মন্দিরে আসে। জেলার ছয়টি উপজেলার ২৮৮ টি মন্দিরের সবকয়টি পূজা মন্দিরেই শান্তিপূর্ণ ও সুন্দরভাবেই পূজা উদযাপন হচ্ছে। কিন্ত টঙ্গীবাড়ি উপজেলার একটি পূজা মন্ডপ পুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম এক মত বিনিময় সভায় পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য ও মুন্সীগঞ্জের কাগজকে জানায়, পূজো উৎসবকে সফল করতে নিরাপত্তা বেষ্টনি থাকবে কয়েক ধাপে। মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা সক্রিয় কাজ করছে আইনশৃৃঙ্খলা বাহিনী ও আনসার সদস্যরা রয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই উৎসবকে ঘিরে প্রাচীন জনপদ মুন্সীগঞ্জের প্রতিটি অঞ্চলে চলছে উৎসব আমেজ।

প্রিয়

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.