বিএনপির লক্ষ্য সব আসন আওয়ামী লীগ চায় ধরে রাখতে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
মুন্সীগঞ্জের তিনটি আসন এবার উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ধরে রাখার চেষ্টা করবে। পাশাপাশি বিএনপিও তাদের এই আসনগুলো পুনরুদ্ধারের মরিয়া। আর বিকল্পধারাও এখানে অন্তত একটি আসন নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা চালাবে। এখানকার গ্রামগঞ্জে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। নানাভাবে সম্ভাব্য সব দলের প্রার্থীই তাদের অবস্থান তুলে ধরার কৌশল অবলম্বন করছেন।

মুন্সীগঞ্জ জেলায় চারটি আসন ছিল। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত একটানা চারটি আসনই ছিল বিএনপির দখলে। ২০০৮ সালে সীমানা পুনঃনির্ধারণ করে তিন আসন করা হয়। এরপর ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনটি আসনেই আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে বিএনপির ঘাঁটিকে ম্লান করে দেয়। রূপান্তর হয় আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও মুন্সীগঞ্জের চারটি আসনেই বিএনপি বিজয়ী হয়। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সুকুমার রঞ্জন ঘোষ প্রায় ৪০ হাজার ভোটে বিএনপির প্রার্থী জাতীয় পার্টির উপ-প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনকে পরাজিত করেন। মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি প্রায় ২০ হাজার ভোটে বিএনপির সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহাকে পরাজিত করেন। অপরদিকে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এম ইদ্রিস আলী প্রায় ২২ হাজার ভোটের ব্যবধানে সাবেক তথ্যমন্ত্রী এম সামসুল ইসলামকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি স্বতন্ত্র প্রার্থী মহবুব মাহাবুব উদ্দিন আহম্মেদ বীর বিক্রমকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে তাক লাগিয়ে দেন। তবে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে সুকুমার রঞ্জন ঘোষ অপেক্ষাকৃত অনেক দুর্বল প্রার্থীকে পরাজিত করেন।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, বিদ্যুতায়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার-মেরামতসহ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে পুঁজি করে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা তিনটি আসনেই ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সভা সমাবেশ, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এবং এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপিসহ অন্যান্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তেমন কোনো জনসংযোগ করতে দেখা যায়নি। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা ও উপজেলা সদরে বিভিন্ন কর্মসূচিসহ নানাভাবে ভোটারদের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন নেতারা।

ইত্তেফাক/ বাছির উদ্দিন জুয়েল

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s